বৃত্তি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ করে তৈরি পোশাকের মান বৃদ্ধি এবং কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সমুদ্র অর্থনীতিসহ পানি কূটনীতি বিষয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার জোর আশ্বাস দিয়েছে নেদারল্যান্ডস। গত ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ দূতাবাস ও ডাচ সরকারের শিক্ষা আন্তর্জাতিকীকরণ প্রতিষ্ঠান নাফিকের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলালের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল নাফিকের পরিচালক থিও হুখমিস্ট্রা এর সঙ্গে দেখা করে এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রস্তাব সম্বলিত একটি বিস্তারিত কার্যপত্র হস্তান্তর করেন।
বাংলাদেশ দূতাবাস ও নাফিক গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ এবং নেদারল্যান্ডসের মধ্যে ২০১৫ সালের জুন মাসে স্বাক্ষরিত জ্ঞান ও সৃজনশীলতা অংশীদারিত্ব বিষয়ক সমঝোতা স্মারকের আওতায় সম্ভাব্য কি কি ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করা যেতে পারে তার উপর কাজ করে আসছে। বৈঠককালে রাষ্ট্রদূত বেলাল ডাচ প্রযুক্তি ও কর্মপন্থা প্রয়োগ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে আরো উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাবার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, নেদারল্যান্ড তাদের ফ্যাশন ডিজাইন, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, বিপণন, ব্রান্ডিং, কৌশলগত আলাপ-আলোচনায় যে উৎকর্ষ সাধন করেছে তা বাংলাদেশের প্রয়োগের মাধ্যমে তৈরি পোশাক খাতকে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।
IMG0
বৈঠককালে পানি কূটনীতি, সমুদ্র অর্থনীতি, বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ও চামড়া শিল্পের আধুনিকায়নে নাফিকের সহযোগিতা কামনা করা হয়। পানি ব্যবস্থাপনায় ডাচদের বিশ্বজোড়া খ্যাতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বেলাল বাংলাদেশ ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলের পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যত কূটনীতিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তৈরি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশের জন্য সমুদ্র অর্থনীতির গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি কিভাবে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ আলাপ-আলোচনা ও শালিসের মাধ্যমে বিশালাকার সমুদ্র সীমার উপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে তার বিবরণ দেন। তিনি জানান যে, টেকসই পদ্ধতিতে সমুদ্র সম্পদ আহরণের জন্য সরকার সমুদ্র অর্থনীতির উপর বিশেষভাবে জোর দেয় এবং নেদারল্যান্ডের সহযোগিতা কামনা করে। তিনি বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও সহযোগিতার অনুরোধ জানান।
ইত্তেফাক/সেতু
