জো ক স

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:০৩

সত্যজিত্ বিশ্বাস

মনোনয়ন দৌড়ে তারকারা

প্রথম বন্ধু :এবার মনোনয়ন দৌড়ে তারকারা কীভাবে অংশ নিচ্ছে দেখছিস?

দ্বিতীয় বন্ধু :কী বলিস তাই নাকি! শুধু কি তারা নাকি চাঁদ-সূর্যও আছে?

 

কে কোন দৃষ্টিতে

আসন্ন ইলেকশনে ৩০০ আসনের জন্য ১২,৬০৮টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হওয়াকে আপনি কী দৃষ্টিতে দেখেন?

নেতা :এ দেশের জনগণ আগে ডাক্তার হতে চাইত, ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইত, খেলোয়াড় হতে চাইত। এখন এমপি হতে চায়।

দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে :অবশ্যই সুদৃষ্টিতে দেখি। আয় খারাপ না।

বিশেষজ্ঞ মহল :দেখেন, ব্যাপারটা ডান কিংবা বাম দুচোখ দিয়েই দেখা যায়। আবার সামনে, পিছনে, জুম করে কিংবা দূর থেকে অনেক অ্যাঙ্গেলেই দেখা যায়। মনোনয়ন ফরম কিন্তু একেক দল একেক মূল্যে বিক্রি করছে। এটা কেন হবে? জটিলতার এখানেই শেষ না। বাম গণতান্ত্রিক জোট কিন্তু টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করছে না। তাদের সিস্টেম হলো, তৃণমূল থেকে এক আসনে একেক প্রার্থীর নাম প্রস্তাব আকারে কেন্দ্রে আসে। তাই ফরম বিক্রির বিষয় নিয়ে হুট করে একটা মন্তব্য করে দেওয়া কোনো কাজের কথা নয়। আসলে আমি যা বলতে চাচ্ছি, তা আপনাকে শুধু শুনলে হবে না, অনুধাবন করতে হবে এর নিগুঢ় তত্ত্ব।   

সুবোধ পাগলা :কোন পাগলে কয়, দেশের মানুষ রাজনীতি পছন্দ করে না, তাইলে এত ফরম কিনল কারা?

সদ্য মনোনয়ন ফরম ক্রেতা :এ সুযোগ প্রতি পাঁচ বছরে একবার মেলে। সুযোগ হারানোর প্রশ্নই ওঠে না।

জনৈক ফেসবুকার (জেলাসির দৃষ্টিতে) :আজ সামান্য ক’টা টাকার জন্য মনোনয়ন ফরম কিনে একটা পিক দিতে পারলাম না। 

 

টিভির নেশা

ছোট মেয়ে :ইশ, এখন যদি কারেন্টটা চলে যেত।  

বাবা :এটা বলছ কেন?

ছোট মেয়ে :খুব খিদে পেয়েছে তো তাই।

বাবা :এর সাথে কারেন্ট চলে যাওয়ার কী সম্পর্ক?

ছোট মেয়ে :টিভির সিরিয়াল শেষ না হলে মা উঠবে ভেবেছ?

 

খুব জানতে ইচ্ছা করে

মানুষ টেলিভিশনকে কেন বোকা বাক্স বলে? অথচ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বোকার মতো টেলিভিশনের দিকে তাকিয়ে থাকে সে নিজেই।

 

তাহলে লবিং করতে আসত কে?

এক ছেলে ছুটতে ছুটতে গ্রামের চেয়ারম্যানের কাছে এসেছে।

চেয়ারম্যান সাহেব :কী ব্যাপার, এমন করে ছুটতে ছুটতে কোথা থেকে এলে? 

ছেলেটি :খেলার মাঠ থেকে। ওখানে এক ছেলে আমার ছোট ভাইকে খুব মারছে। 

চেয়ারম্যান সাহেব :তোমার ছোট ভাইকে মারছে আর তুমি তা দেখে আমার কাছে ছুটে এলে?

ছেলেটি :জি, চেয়ারম্যান সাহেব।

চেয়ারম্যান সাহেব :আরে বোকা ছেলে, আমার কাছে ছুটে না এসে তোমার ভাইকে সাহায্য করে ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলতে পারতে না?  

ছেলেটি :তা পারতাম। কিন্তু তাহলে লবিং করতে আসত কে?

 

যেমন প্রশ্ন, তেমন উত্তর

স্যার :বল তো, মনের সাথে নয়নের সম্পর্কে কী বলে?  

ছাত্র :মনোনয়ন।

স্যার :কী! এবার বল তো, যে স্টার লবিং করে তাকে কী বলে?  

ছাত্র :লবস্টার।

স্যার অজ্ঞান...

 

আবহাওয়া অনুকূলে

অফিস কলিগ :সে কী ভাই, ঠাণ্ডায় রীতিমতো কাঁপছি, বাইরে সূর্যটা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। অথচ আপনি বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে? 

এমদাদ সাহেব :না, মানে অফিস শেষে বউ শপিংয়ে যেতে চেয়েছিল তো, তাই বললাম।

 

মূল্য জানা

নেতা :সামনে ইলেকশন, প্রত্যেক মানুষের উচিত নিজের মূল্য জানা। কেউ কি তা জানার চেষ্টা করে?

কর্মী :অন্য কারোর কথা বলতে পারব না, তবে আমার ছোট ভাইয়েরটা জানি।

নেতা :মানে?

কর্মী :পুলিশ ঘোষণা দিয়েছে তাকে ধরিয়ে দিতে পারলে এক লাখ টাকা দেওয়া হবে।

 

রাজ রোগ

প্রথম বন্ধু :ইদানীং আমার যে কী হয়েছে, কিছুই মনে রাখতে পারছি না। কাউকে কথা দিলে ভুলে যাচ্ছি। কী করি বল তো? কোন ডাক্তারের কাছে যাব?

দ্বিতীয় বন্ধু :ডাক্তারের কাছে যাবি মানে! এক্ষুনি একটা নমিনেশন পেপার কিনে ফেল।

 

বড় মনের নেতা

প্রথম বান্ধবী :জানিস, আমার বাবা কত বড় মনের নেতা?

দ্বিতীয় বান্ধবী :কত বড় মনের?

প্রথম বান্ধবী :প্রতিদিন অন্তত বিশজন লোককে না খাইয়ে বাবা দুপুরের ভাত খায় না।

দ্বিতীয় বান্ধবী :তাই! তবে আমার মামার কাছে এটা কিছুই না।

প্রথম বান্ধবী :তার মানে?

দ্বিতীয় বান্ধবী :আমার মামা অন্তত একশ জন লোককে না খাইয়ে দুপুরের ভাত খায় না।

প্রথম বান্ধবী :বলিস কী! তোর মামা তো বিশাল মনের নেতা।

দ্বিতীয় বান্ধবী :তাই তো বললাম। 

প্রথম বান্ধবী :উনি নিশ্চয়ই খুব বড়লোক?

দ্বিতীয় বান্ধবী :মোটেই না।

প্রথম বান্ধবী :তাহলে? কী করেন উনি?

দ্বিতীয় বান্ধবী :হোটেলের ওয়েটার।

 

তারারা কই? 

ছোট ছেলে :মা বলো তো, ইদানীং আকাশে তারা দেখা যায় না কেন?

মা :ওরা হয়তো রেস্ট নিচ্ছে। 

ছেলে :হাঃ হাঃ হাঃ! তুমি কিচ্ছু জানো না। বাবা জানে।

মা :কী জানে তোর বাবা?

ছেলে :বাবা বলেছে, সামনে নির্বাচন তো, তাই তারারা এখন মনোনয়নের জন্য দৌড়াচ্ছে।

 

ফেসবুক নেতা

মামা :তোরা তো আজকালকার পোলাপান, আসল নেতাই কখনো দেখিসনি।  

ভাগ্নে :কেন, এখনকার নেতারা আসল নেতা না?

মামা :মোটেই না। নেতা ছিল আমাদের সময়ে। মানুষজনের সুখ-দুঃখে পাশে এসে দাঁড়াত। অন্যায়ের প্রতিবাদ করত।

ভাগ্নে :কেন, এখন বুঝি কেউ মানুষজনের সুখ-দুঃখে পাশে এসে দাঁড়ায় না? অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না?

মামা :কই করে?

ভাগ্নে :তুমি জানবে কী করে? তুমি তো ফেসবুকে নেই।

 

টেলিভিশন প্রেম

প্রথম বান্ধবী :কীরে সারাদিন বসে টিভি দেখিস, মোটা হতে হতে তো পরে আর ঘর থেকে বের হতে পারবি না। 

দ্বিতীয় বান্ধবী :আরে না, শুকিয়ে যাব, ডাক্তারের পরামর্শ ফলো করছি তো।

প্রথম বান্ধবী :ডাক্তার তোকে কী বলল?

দ্বিতীয় বান্ধবী :ডাক্তার বলল, টিভিতে সারাদিন বসে সিনেমা আর সিরিয়াল দেখি বলেই মোটা হয়ে গিয়েছি। খেলাধুলার দিকে ঝুঁকতে।

প্রথম বান্ধবী :ঠিকই তো বলেছে।

দ্বিতীয় বান্ধবী :তারপর থেকে শুধু খেলাধুলার চ্যানেলগুলোই দেখি।