বসুন্ধরা কিংস ৪
মোহামেডান ১
স্পোর্টস রিপোর্টার
হারেরও একটা স্বাভাবিক সৌন্দর্য থাকে। ভালো খেলেও কোনো দল হারতে পারে। মোহামেডান যেভাবে বসুন্ধরা কিংসের কাছে হারল তা দেখে আবাহনীর গ্যালারির কয়েকজন দর্শক হতাশ হয়ে বলছিলেন, আমরা আবাহনীর সাপোর্টার হয়ে মোহামেডানকে সাপোর্ট করলাম। এটা কোনো খেলা হলো ? এতো বাজে ফুটবল খেললে কোনোদিনও জেতা সম্ভব না। অন্য পাশে মোহামেডানের দর্শক নির্বাক। যেন কোনো কিছুই বলার নেই। মোহামেডানের হার দেখে দেখে তারাও যেন অভ্যস্ত। তাই হয়ত গ্যালারিতে সাদাকালো সমর্থক দিনকে দিন শুধুই কমছে। আবাহনীর গ্যালারিতে কিছু দর্শক থাকলেও মোহামেডানের গ্যালারি থাকে প্রায় শূন্য।
গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার লিগের খেলায় বসুন্ধরা কিংস ৪-১ গোলে মোহামেডানকে হারিয়ে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল।
রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা বসুন্ধরার কলিন্দ্রেস খেলেননি হলুদ কার্ডের নিষেধাজ্ঞা থাকায়। তারপরও আক্রমণভাগে বসুন্ধরা যেন দুর্বার। তাদের সামনে মোহামেডানের ১০ নম্বর জার্সি গায়ে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড হাতে স্ট্রাইকার জাহিদ হোসেন এমিলি খেললেন রক্ষভাগে। সবাই ভেবেছিলেন এই ফুটবলার আপন দক্ষতায় বসুন্ধরার আক্রমণভাগে মতিন মিয়া, সুফিল, ভিনিসুয়াস, মার্কেসা, মাসুক মিয়া জনিদের উড়িয়ে দেবেন। কিন্তু ঘটল তার উল্টো। আক্রমণের স্রোতে এমিলি নিজেই খড়কুটোর মতো উড়ে গেলেন। এসব ছবি দেখে দর্শকের পেট উগড়ে আসছিল। কেউ বলবে ? এটা মোহামেডানের খেলা। পুরো ৩৩ দিন বন্ধ পেয়েও মোহামেডান নিজেদের উন্নতির ছাপ দেখাতে পারল না। বসুন্ধরা অনেক শক্তিশালী দল। তারা অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলেছে তাও না। মোহামেডান অস্ট্রেলিয়ান কোচ সিনলেনের হাতে দায়িত্ব দিল। চোখে পড়ার মতো কিছুই দেখাতে পারলেন কোথায়।
১৯ মিনিটে বসুন্ধরা ব্রাজিলিয়ান মার্কোসের গোলে এগিয়ে যায় ১-০। গোল খেয়ে এমিলি দৌড়ে রেফারি জালালের কাছে প্রতিবাদ জানায়। পাত্তা দেয়নি জালাল। মোহামেডানের সৌভাগ্য ১ মিনিট ব্যবধানে গোল শোধ করে ফেলে। বসুন্ধরার ডিফেন্ডার নাসিরের একটা ভুলের সুযোগ মোহামেডানের গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড ল্যান্ডিং গোল করেন ১-১। এরপরও সুযোগটা তুলে নিতে পারেনি মোহামেডান। মতিন মিয়া দুর্দান্ত গতিতে গোল করলেন ২-১। বসুন্ধরাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। বসুন্ধরার কর্মকর্তা ইমরুল হাসান এমিলিদের খেলা দেখে একগাল হাসলেন। খেলা দেখতে আসা ফুটবল সংশ্লিষ্টরা মনে করেন এমিলি একাদশে থাকা মানে মোহামেডান ১০ নিয়ে মাঠে নামছে। ৪৪ মিনিটে বসুন্ধরার মার্কোস দ্বিতীয় গোল করলেন ৩-১।
দ্বিতীয়ার্ধে মোহামেডান দুই একটা ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন। বসুন্ধরার গোলকিপার জিকো সামাল দিয়েছেন। মোহামেডানের নির্ভরতা কিংসলে চিগোজি, ল্যান্ডিংরা। জাপানি ফুটবলারকে রক্ষণে দিয়েছে। মোহামেডানের রক্ষণ যেন ছিন্নভিন্ন করে দেয় বুসন্ধরা। রাগে ক্ষোভে অধিনায়ক নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সহকারী রেফারি ইকবাল আলমের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন। আবার কখনো নিজের খেলোয়াড়দের সঙ্গেও একই ব্যবহার করেন। পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বসুন্ধরার হাতে। ৮৩ মিনিটে কিরগিজ ফুটবলার বখতিয়ার ম্যাচের চতুর্থ গোল করেন ৪-১। বসুন্ধরা ১০ খেলায় ২৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে থাকল, মোহামেডান ১০ খেলায় ৫ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম হারে ১৩ দলের মধ্যে ১১ নম্বরে এখন।
আজকের খেলা :
আবাহনী ও চট্টগ্রাম আবাহনী। ৪টা, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। আরামবাগ ও বিজেএমসি। ৩টা, রফিক উদ্দিন ভুইয়া স্টেডিয়াম, ময়মনসিংহ।
