নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কয়েকটি গ্রামে হস্তচালিত তাঁতের তৈরি-থ্রি পিসের বেশ কদর রয়েছে। অনেক তাঁতি এই পেশা ছেড়ে দিয়েছে। যারা টিকে আছেন তারা ভাল ভাবেই আছেন। তাদের তৈরি কাপড় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। ভাল মানের কাপড় যাচ্ছে দেশের বাইরেও। উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের লতব্দী এবং হাইজাদী ইউনিয়নের নারান্দী, সুলতান সাদিতে অনেক তাঁতি এখন স্বাবলম্বী।
জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিগত ৮০ এর দশক থেকে ৪ পায়া ও ৬ পায়া বিশিষ্ট হ্যান্ডলুমে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন রং ও ডিজাইনের আকর্ষণীয় থ্রি-পিস। কয়েকটি কারখানায় জামদানি শাড়ী তৈরি করা হয়।
কারখানার মালিকেরা রাজধানীর মিরপুর থেকে সুতা, বাদলাই ও জড়ি বুটি কিনে এনে থ্রি-পিস তৈরি করে প্রতি মঙ্গলবার সেগুলো নিয়ে যায় আবার সেই রাজধানীর মিরপুর জামদানি পল্লীতে। সেখানেই তারা কাপড়গুলো পাইকারি দরে বিক্রি করে থাকে। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থ্রি-পিসগুলো চলে যায়। দেশের বিভিন্ন বড় বড় মার্কেটের প্রসিদ্ধ শো রুমগুলোতে একেকটি থ্রি-পিস মান ও ডিজাইন বুঝে ভাল দামে বিক্রি হয়ে থাকে।
লতব্দী গ্রামের কারখানার মালিক শিমুল, মোমেন, শহিদুল্লাহ, সালাম মেম্বার, আবু ছিদ্দিক, অদুদ মিয়া জানান, থ্রি-পিস তৈরি করা আমাদের বাপ-দাদার পেশা। হস্ত চালিত তাঁত শিল্পের মধ্যে অন্যান্য বস্ত্র কারখানার ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে যখন করুণ দশা তখনো আমাদের ব্যবসা আল্লাহর রহমতে ভালই চলে আসছে। শুধু থ্রি-পিস নয়, আমরা চড়া দামের বেনারশি শাড়ী ও তৈরি করে থাকি। সুলতান সাদী গ্রামের মফিজুল, মান্নান ও মজিবুর জানান, আমরা অনেক দিন ধরে থ্রি পিস তৈরি করছি। ব্যবসা ভাল হচ্ছে। তারা জানান, সরকার পৃষ্ঠপোষকতা করলে আরো ভাল করবে তাঁতিরা।
ইত্তেফাক/এমআর
