অতীত থেকে আমরা কতটুকু শিক্ষা নিচ্ছি?

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৪৯

কাজী আশফিক রাসেল

‘ইতিহাসের সবচাইতে বড় শিক্ষা এই যে, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না’ কথাটি প্রখ্যাত ব্রিটিশ লেখক-নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ তাঁর নিজ দেশের ও সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বললেও আমাদের দেশ ও সমাজ ব্যবস্থার বর্তমান প্রেক্ষাপটে কথাটির গ্রহণযোগ্যতা অনস্বীকার্য।

আমরা যেন ভয়ংকর এক মৃত্যুর ফাঁদে পড়েছি। দেশের বাসাবাড়ি, সুউচ্চ বহুতল ভবন, সড়ক, মহাসড়ক, রাজপথ, নৌপথ, সেতু, সব যেন সাক্ষাত্ মৃত্যুর ফাঁদ। সড়কে বের হলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবরারের মতো গাড়ির চাপায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারাতে হবে আর অফিসে কিংবা বাসায় থাকলে আগুনে পুড়ে মরতে হবে। কখনো পুরান ঢাকার নিমতলীতে, আবার কখনো আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনে। একবার সাভারের রানাপ্লাজা, আরেকবার চকবাজার। আবার চকবাজারের শোক কাটাতে না কাটাতেই বনানীর অগিকাণ্ডে ২৫ জনের অঙ্গার হওয়া লাশ। এভাবে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড বা সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন শবযাত্রায় যুক্ত হচ্ছে নতুন লাশ। বাতাসে লাশের গন্ধ আর স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে চারদিক প্রতিনিয়ত ভারী হয়ে উঠেছে। মৃত্যুর মিছিল শুধু দীর্ঘতরই হচ্ছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে ২০ থেকে ২১ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আর অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে, ২০১৫ সালে ২৪২ জনের, ২০১৬ সালে ৮৮ জনের, ২০১৭ সালে ৪৫ জনের এবং গত বছর অর্থাত্ ২০১৮ সালে ১৩০ জনের। এক হিসেবে দেখা গেছে, গত ৫ বছরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আর্থিক ক্ষতি গুনতে হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিবছর সারাদেশে গড়ে ১৬ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং গড়ে ২শ ৩৩ জন মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন।

সব মৃত্যুই বেদনাদায়ক, কিন্তু এ ধরনের অপমৃত্যু মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। প্রত্যেকটা হূদয় বিদারক মর্মান্তিক ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর পুরোদেশ শোকের গভীরতায় আচ্ছন্ন হয়, কিন্তু এটা আমাদের জাতির দুর্ভাগ্য যে এমন রোমহর্ষক ঘটনাগুলো আমাদের অনেকের কাছে নিতান্তই শোকের বিষয়,  শিক্ষণীয় নয়।

আমার মনে হয় একের পর এক যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার অবতারণা ঘটছে সবগুলো একই সূত্রে গাঁথা।  প্রত্যেকটি দুর্ঘটনা যেমন পুঁজিপতিদের অতি মুনাফাখোরী মনোভাবের প্রতিফলন তেমনি আমাদের অজ্ঞতা, জাতীয় অবহেলা, অব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতিহীনতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। অতীতের উদাহরণগুলো থেকে শিক্ষা লাভ করে আমরা একটু সচেতন হলেই অধিকাংশ সংঘটিত দুর্ঘটনা এড়াতে সক্ষম হতাম। তাই, অতীতের মর্মস্পর্শী ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারব ততক্ষণ পর্যন্ত এরকম ঘটনা অনবরত ঘটবে তা নিঃসংকোচে বলা যায়।

n লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়