আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় আট বছর কাটিয়ে দিয়েছেন রুবেল হোসেন। ৭৭ ওয়ানডে, ১৪ টি-টোয়েন্টির বিপরীতে খেলেছেন ২৪ টেস্ট। গতির ঝড় তুলতে সক্ষম রুবেলকে এখনো সীমিত ওভারের স্পেশালিস্টই বিবেচনা করা হয়। টেস্টে তার বাজে বোলিং গড়ই (৭৭.৯৩) মূল কারণ।
তারপরও দেশের বাইরে পেস, বাউন্সি কন্ডিশনে রুবেলের কার্যকারিতা প্রমাণিত। বল হাতে এসব কন্ডিশনে ডানহাতি পেসার সবসময় বাংলাদেশের বড় ভরসা। যার ধারাবাহিকতায় এবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছেন অভিজ্ঞ এ পেসার। দক্ষিণ আফ্রিকায় ঘাসের উইকেটে বোলিং করতে মুখিয়ে আছেন তিনি। হাশিম আমলা- ডি ভিলিয়ার্সদের বিরুদ্ধে বোলিংয়ের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত রুবেল।
গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছেন ২৭ বছর বয়সী এ পেসার। সুযোগ পেলে নিজের শতভাগ দিতে চান রুবেল। তিনি বলেছেন, ‘আমি বোলিংয়ের সুযোগ পেলে চেষ্টা করবো ভালো বোলিং করতে এবং দলকে ব্রেক থ্রু এনে দিতে। আমি দলের জন্য লড়তে প্রস্তুত। অধিনায়ক বল দিলে আমি শতভাগ দিতে চেষ্টা করবো।’
প্রোটিয়াসদের ব্যাটিং লাইনের বিরুদ্ধে রুবেল-মুস্তাফিজদের দিতে হবে বড় পরীক্ষা। আমলা-ডু প্লেসিস-ডি ভিলিয়ার্সরা নিজেদের কন্ডিশনে প্রায় অপ্রতিরোধ্য। রুবেলের চাওয়া ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতার নিদর্শন আমলার উইকেট। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার চার-পাঁচজন ব্যাটসম্যান আছে যারা র্যাংকিংয়ের সেরা দশে আছে। প্রতিটি উইকেটই গুরুত্বপূর্ণ আমাদের কাছে। কিন্তু আমার ভালো লাগবে যদি আমি হাশিম আমলার উইকেট নিতে পারি।’
দেশের মাটিতে ফ্ল্যাট উইকেটে বোলিং করতে হয় পেসারদের। দেশের বাইরে পেস সহায়ক উইকেটে বোলিং করার সুযোগ পেলে রুবেলরা বেজায় খুশি হন। ফিটনেস, বোলিং নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করছেন জানিয়ে গতকাল তিনি বলেন, ‘আমি অনুশীলনে কঠোর পরিশ্রম করছি। নিয়মিত জিম করছি এবং ফিটনেসে ফোকাস করছি। অবশ্যই লম্বা সময় লাইন-লেন্থ বজায় রাখতে আমি নিজের বোলিং নিয়ে অনেক কাজ করেছি। সুইং নিয়েও কাজ করছি। আমরা সবাই জানি, দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে পেসাররা সুবিধা পাবে। আমাদের মনোযোগ দিয়ে বল করতে হবে। ঘাসের উইকেটে বোলিং করতে মুখিয়ে আছি। ঘাসের উইকেটে কিভাবে লাইন-লেন্থ ধরে রাখতে হয় সেখানে মনোযোগী হতে হবে আমাদের।’
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলে আছেন পাঁচ পেসার। রুবেল ছাড়াও মুস্তাফিজ, তাসকিন, শফিউল, শুভাশীষ রায় সুযোগ পেয়েছেন। কন্ডিশন পেস সহায়ক বলে একাদশে দুই বা তিন পেসারও দেখা যেতে পারে। রুবেল বলছেন, পেসারদের এ প্রতিযোগিতা, চ্যালেঞ্জ দলের জন্যই ভালো।
তিনি বলেন, ‘সুস্থ প্রতিযোগিতা সবসময় ভালো। এটা দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। আমি মনে করি দলে প্রতিযোগিতা খুব ভালো। প্রত্যেক পেস বোলার পারফর্ম করতে চাইবে কারণ সবাই জানে দলে থাকতে হলে পারফর্ম করতে হবে। এ ধরনের চ্যালেঞ্জ বোলারদের জন্য ভালো। আমার মনে হয়, প্রত্যেক পেস বোলার এ চ্যালেঞ্জটা উপভোগ করবে।’
সার্বিকভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে চ্যালেঞ্জিং মনে করছেন ২৪ টেস্টে ৩২ উইকেট পাওয়া রুবেল। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা সফর খুব চ্যালেঞ্জিং হবে। চ্যালেঞ্জ শুধু আমার জন্য নয় পুরো দলের জন্যই। আমরা সবাই জানি দক্ষিণ আফ্রিকায় উইকেট পেস সহায়ক। আমরা সেভাবেই মানসিকভাবে তৈরি হচ্ছি। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি, আমাদের বাউন্সি, পেসবান্ধব উইকেটে ব্যাটিং, বোলিং করতে হবে।’
ইত্তেফাক/এমআর
