ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ইত্তেফাক ডেস্ক
শনিবার রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে জীবননগর ও মহেশপুরে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হওয়াসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপড়ে গেছে বহু গাছ-পালা। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:
জীবননগরে গাছ ভেঙে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বহু গাছ-পালা ও ডাল ভেঙে গেছে। ঝড়ের মধ্যে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে মাথার ওপর গাছ ভেঙে পড়ে ডিস নেটওয়ার্ক ক্যাবল ব্যবসায়ী মনির হোসেন মারা যান। ঝড়ে অনেক কাঁচা-পাকা বাড়ির চালা উড়ে গেছে। বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ায় অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় পুরো উপজেলা। ইরি ধানসহ উঠতি ফসল, আমের গুটি ও সাজনা ডাঁটার ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। ডিসকভারি ডিস নেটওয়ার্কের স্বত্বাধিকারী ফয়সাল খবির মনিরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মহেশপুরে একজনের মৃত্যু
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কাঁচা ঘর-বাড়িসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে গাছ চাপা পড়ে পাথিলা গ্রামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বরুপপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, রাতে ঝড়ের মধ্যে দত্তনগর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় পাথিলা গ্রামের আমিনুর রহমানের ছেলে মনির হোসেনের মাথায় রাস্তার গাছ ভেঙে পড়লে সে মারা যায়। এছাড়া ইউনিয়নে কয়েকশ’ আধা কাঁচা-পাকা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেরুননেছা জানান, তারা সকল ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের কাছে ক্ষয়-ক্ষতির তথ্য চেয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন। তবে এখনও সব তথ্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু তালহা জানান, উপজেলার বোরো আবাদ ও উঠতি ফসল ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
হাজীগঞ্জে ভবনের দেয়াল ভেঙে ইমাম আহত
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং বড়কুল ইউনিয়নের এন্নাতলী গ্রামের মিজি বাড়িতে ঝড়ে একটি ভবনের অংশ ভেঙে পার্শ্ববর্তী মসজিদের উপর পড়ে। এতে স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুল আলিম আহত হন। তাকে রাতেই হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
মাওলানা আবদুল আলিম বলেন, রাতে ঘুমে ছিলাম। ঝড়ের মাঝে আচমকা ভবনের দেয়াল থেবড়ে পড়ে। এতে মসজিদের টিনের চালা ভেঙে আমার মাথায় পড়ে। চিকিত্সক আমার মাথায় পাঁচটি সেলাই দিয়েছে।
কোটালীপাড়ায় ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, ফসলের ক্ষতি
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে বেশকিছু ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে গেছে গাছ-পালা। মৌসুমী ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার পূর্ণবর্তী গ্রামের মহিদুল শেখ বলেন, বৈশাখী ঝড়ে আমার বসতঘরটি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়াও এলাকার অনেক গাছ-পালা উপড়ে পড়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কিছু কিছু ক্ষতির কথা শুনেছি। চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে জরিপ করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে।
