দেশের দক্ষিনাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের প্রধান রুট শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারন করছে। প্রতিদিন নৌরুটের চারটি ঘাটে গড়ে আটকে থাকছে প্রায় দুই হাজার পণ্যবাহী ট্রাক। পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে ৩ থেকে ৪ দিন পর্যন্ত। বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাব্যতা সংকটের কারণে শিমুলিয়া- কাঁঠালবাড়িতে পর্যাপ্ত সংখ্যক যানবাহন ফেরিতে তোলা সম্ভব হচ্ছেনা।
অপর দিকে দৌলতদিয়া- পাটুরিয়া নৌ রুটে পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আর এ কারণে ঘাটে প্রতিদিন আটকে থাকছে বিপুল সংখ্যক ট্রাক। তবে বাস, পচনশীল পণ্যবহনকারী ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে। এ দিকে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি অতিসত্ত্বর ফেরী পারাপারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, দৌলতদিয়া- পাটুরিয়া নৌ রুটে ১৯টি ফেরির মধ্যে দুইটি ফেরি যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। ১৭টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার চলছে।
তিনি বলেন,গতকাল ( ২৪ ঘন্টায়) দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পারপার হয়েছে দু’হাজার ৩’শ যানবাহন। এরমধ্যে বাস ৭’শ, ট্রাক ৭’শ ও ছোট যানবাহন ৯’শ। যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি। কারণ ঈদের চাপ এখনও কমেনি।
বিআইডব্লিউটিসির এ কর্মকর্তা বলেন, সমস্যা ট্রাকের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে নির্মান সামগ্রীসহ অন্যান্য পণ্যবহনকারী ট্রাক(এ কর্মকর্তার ভাষায় এসব পণ্য বহনকারী ট্রাকের পন্যকে বাজে মাল বলা হয়)। তবে পচনশীল পণ্য বহনকারী ট্রাক বাসের সঙ্গে পারপার করা হয়ে থাকে। তিনি বলেন, তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আগে যেখানে ফেরি প্রতি ২৪ ঘন্টায় ১৮ থেকে ২০ বার ট্রিপ দিত সেখানে এখন স্রোতের কারণে ১০/১২ বারের বেশি সম্ভব হচ্ছেনা। আর এ কারণেই বিশেষ ট্রাক পারাপারের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, একই অবস্থা পাটুরিয়া ঘাটে। ফলে উভয়ঘাটে কম করে হলেও সহস্রাধিক ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় সময় গুনতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঈদের চাপ এখনও শেষ হয়নি। তবে আশা করা যাচ্ছে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।
অপর দিকে বিআইডব্লিউটিসি’র শিমুলিয়া ঘাটের মহাব্যবস্থাপক মো ঃ গিয়াসউদ্দিন বলেন, ১৬টি ফেরির মধ্যে ১৫টি সচল রয়েছে। কিন্তু সমস্যা নাব্যতা। নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরিতে বেশি সংখ্যক যানবাহন তোলা যাচ্ছেনা। এ কারণেই ট্রাক পারাপারের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন শিমুলিয়া- কাঁঠালবাড়ি নৌ রুটে ( উভয় অংশে) পারপার হচ্ছে বাস ট্রাকসহ ২৬’শ যানবাহন। এরমধ্যে প্রতি অংশে বাস পারপার হয় তিন থেকে সাড়ে তিন’শ। ট্রাক ৪ থেকে ৫’শ এবং বাকিটা ছোট যানবাহন। ফলে নির্মান সামগ্রীসহ অন্যান্য পণ্যবহনকারী ট্রাকের জট তৈরি হচ্ছে উভয় ঘাটে। কি সংখ্যা হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৭ থেকে ৮’শ তো হবে।
তিনি আরও বলেন, আগে প্রতিটি ফেরি দিনে ১৫ থেকে ১৬ বার ট্রিপ দিত সেখানে ট্রিপের সংখ্যা কমে গেছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিমুলিয়া থেকে কাঁঠাল বাড়ি নৌ রুটের দুরত্ব ১২ কিলোমিটার। কিন্তু দৌলতদিয়া- পাটুরিয়া ঘাটের দূরত্ব ৪ কিলোমিটার।
প্রসঙ্গ, নাব্যতা সংকটের কারণে গত ৩১ আগষ্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌ রুটে ফেরি চলাচল দারুন ভাবে ব্যবহত হয়। আর এর চাপ পরে দৌলতদিয়া -পাটুরিয়া ঘাটে। ফরে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় ঈদ ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেলা মানুষদের।
পদ্মাসেতু নির্মাণের জন্য ২৮ বছর পর (১৯৮৬ সালে উপজেলার মেদিনীমন্ডল এলাকার মাওয়া ঘাট নির্মান করা হয়েছিল) গত বছর ২৭ নভেম্বর মাওয়া থেকে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযানের ঘাট স্থানান্তরিত হয় মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়ায়। ফলে পথের দূরত্ব কমে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার।
পন্য পরিবহন জট নিরসনের দাবি
এ দিকে দৌলতদিয়া- পাটুরিয়া এবং শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌ রুট পণ্য পরিবহন জট নিরসনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির । গতকাল শনিবার রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ডে সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় সমিতির সাধারন সম্পাদক মোঃ রুস্তম আলী খান বলেন, মাওয়া- কাওরাকান্দী ও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি স্বল্পতা এবং পদ্মার তীব্র সে াতের কারনে আবারও ফেরি ঘাটে বিশাল যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, অধিকাংশ ফেরি পুরাতন হওয়ায় ইঞ্জিনের শক্তি কমে গেছে যার ফলে তীব্র স্রোতের বিপরীতে উক্ত ফেরি পারাপারে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে দ্বিগুন সময় লাগছে। ফেরী স্বল্পতার কারনে হাজার হাজার গাড়ি বিভিন্ন ঘাটে দিনের পর দিন অপেক্ষমান রয়েছে। সমিতির সভাপতি হাজী মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মজুমদারের সভাপতিত্বে এ সভায় বক্তব্য রাখেন সমিতির কার্যকরী সভাপতি এস এম বখতিয়ার, সহ-সভাপতি খবির উদ্দিন আহম্মেদ, সহ-সাধারন সম্পাদক হোসেন আহম্মেদ মজুমদার, যুগ্ম সম্পাদক ফারুক হোসেন হেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম খান ভুট্রু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কুতুবুদ্দিন সাগর সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ইত্তেফাক/আনিসুর
