বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

কৃষি কন্যাদের জয়যাত্রা

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৯:০০
 
প্রতিটি অনুষদেই বেড়েছে ছাত্রী সংখ্যা। সেরা পাঁচের ফলাফলের দিক দিয়ে মেয়েরাই এগিয়ে। ভেটেরিনারি, কৃষি, ফিশারিজ, পশুপালন, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান, কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ এবং ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে আনুপাতিক হারে বেড়েছে ছাত্রী সংখ্যা
 
কোনো জাতির সমৃদ্ধির সিংহভাগটাই কৃষির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন লোকে মনে করতো, কৃষি শিক্ষা পড়বে ছেলেরা, মেয়েরা পড়বে গার্হস্থ্য বিজ্ঞান। বর্তমানে এ ধারণার মূলোত্পাটন হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে এবং কৃষি শিক্ষার ক্ষেত্রে এখন ছাত্রীদের জয়জয়কার। উপমহাদেশের কৃষি শিক্ষার শ্রেষ্ঠ এবং পৃথিবীর অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রদের অনুপাতে ও সাফল্যের ধারায় মুকুট পরে ছাত্রীদের দাপিয়ে বেড়ানোই প্রমাণ করেছে কৃষি শিক্ষায় এখন কৃষি কন্যাদের রাজত্ব কায়েম হতে চলেছে।
 
১২৫০ একর জমির উপর ১৯৬১ সালের ১৮ আগষ্ট উপমহাদেশের সেরা ও ঐতিহ্যবাহী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও ছিল না কোনো ছাত্রী। দেশের স্বাধীনতা লাভের পর থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী ভর্তি শুরু হয়। কিন্তু এক কথার মতো সহজ ছিল না ছাত্রী ভর্তি। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। এক পর্যায়ে ছাত্র নেতৃবৃন্দকে আন্দোলনে নামতে হয়েছিল। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্কালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আমিরুল ইসলাম ছাত্রী ভর্তির সকল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ১৯৭২ সালে তত্কালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. মছলেহ উদ্দিনের সময়কালে ১৯৭১-১৯৭২ শিক্ষাবর্ষে ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীদের ভর্তি শুরু হয়। সে সময় ছাত্রী সংখ্যা ছিল হাতেগোনা কয়েকজন মাত্র। কিন্তু এখনকার চিত্র পুরোটাই ভিন্ন ১৯৭৩-৭৪ সালে ময়মনসিংহের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ১৭ জন মেয়ে থাকলেও আজ তা বৃদ্ধি পেয়ে দুই সহস্রাধিক ছাড়িয়ে গেছে।
 
অনুপাতের পার্থক্য কমিয়েই ক্লান্ত হয়নি ছাত্রীরা। সাফল্যের দিকে তাকালে দেখা যায় ছাত্রীরা এগিয়ে। শ্রেণি পরীক্ষার (লেভেল সেমিষ্টার ফাইনাল পরীক্ষা) ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায় মেধাতালিকার অর্ধেকই দখল করে আছে ছাত্রীরা। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিকার সংখ্যাও বাড়ছে উলে­খযোগ্য হারে। 
 
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেজিস্ট্রার ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীদের ভর্তি করার জন্য তখনকার সময়ে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল কো-এডুকেশন তথা সহশিক্ষার মূল্য কতখানি। কৃষি ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের হস্তক্ষেপ সমানে সমান হওয়া উচিত। সে সময় মোঃ নজিবুর রহমান ছিলেন ছাত্রলীগ মনোনীত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (বাকসু) ভিপি। প্রথম ব্যাচে ভর্তি হওয়া নারীরা এখন দেশবরেণ্য নারী। ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীরা মেধার পরিচয় দিয়ে বর্তমানে বিএডিসি, বিআরআরআই, বিএআরআই, এসআরডিআই ইত্যাদি বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি বেসরকারি ব্যাংক, এনজিও, কোম্পানি, চা-বাগান, আখ, পাট, নদী গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সাফল্যের সাথে কাজ করছেন। কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের প্রফেসর ড. এটিএম জিয়াউদ্দিনের সহপাঠী বিলকিস আমিন জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত। বেগম আনোয়ারী আছেন মত্স্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদে। এছাড়া মত্স্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ফুড কোম্পানি, বড় ধরনের খামারে উচ্চতর পদে আসীন আছেন অনেক ছাত্রী।
 
প্রতিটি অনুষদেই বেড়েছে ছাত্রী সংখ্যা। সেরা পাঁচের ফলাফলের দিক দিয়ে মেয়েরাই এগিয়ে। ভেটেরিনারি, কৃষি, ফিশারিজ, পশুপালন, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান,কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ এবং ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে আনুপাতিক হারে বেড়েছে ছাত্রী সংখ্যা।
 
সংস্কৃতি জগতেও পিছিয়ে নেই ছাত্রীরা। সেখানেও তাদের সরব উপস্থিতি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, কৃষ্টি, উদীচী, অঙ্কুর, ত্রিভুজ, সঙ্গীত সংঘ, বিনোদন সংঘ, নাট্য সংঘ, কম্পাস নাট্য সমপ্রদায়, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, খেলাধুলা, স্কাউটিং সবখানেই ছাত্রীদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ সবকিছু ছাপিয়ে যায়। 
 
পূর্বে মেয়েদের জন্য মাত্র একটি হল বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে দুটি পূর্ণাঙ্গ হল এবং একটি এক্সটেনশন হলের ব্যবস্থা রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/কেকে