বিজ্ঞাপন নেই, কোনো প্রচার নেই, মিডিয়ার দৌঁড়াদৌড়ি নেই, দেওয়ালে ঝোলানো সাইনবোর্ডে নিজের নামটাও নেই কিন্তু দারুণ এক কাজ করে চলেছেন ভারতের স্পিন বোলিং অল-রাউন্ডার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ভারতের চেন্নাইয়ের রামকৃষ্ণ মিশন মাঠ। সেখানে গিয়ে বোঝার উপায় নেই যে, ওখানে তৈরী হচ্ছে ভারতের ভবিষ্যত অশ্বিনরা। স্বয়ং অশ্বিন তাদের শেখাচ্ছেন ঘূর্ণি বলের কৌশল!
চেন্নাইয়ের প্রাণকেন্দ্র 'জেন নেক্সট' ক্রিকেট অ্যাকাডেমি গড়ে তুলেছেন অফস্পিনার অশ্বিন। সেখানে সকাল-বিকেল চলছে তামিলনাড়ুর খুদে ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ঠাসা সূচির মধ্যেও সময় বের করে কিশোরদের প্রশিক্ষণ দিতে ছুটে আসেন অশ্বিন স্বয়ং। পাশাপাশি স্থানীয় অভিজ্ঞ কোচদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেল তৈরি করেছেন। ভবিষ্যতে তামিলনাড়ু থেকে জাতীয় দলে ক্রিকেটার উপহার দেওয়াটাই লক্ষ অশ্বিনের।
অশ্বিনের বাবা রবিচন্দ্রন অনেকদিন থেকেই চাইছিলেন এলাকার ক্রিকেটের জন্য কিছু করতে। ৫ বছর আগে অ্যাকাডেমি তৈরির প্রস্তাব উনিই দিয়েছিলেন। বাবার প্রস্তাবে অশ্বিন সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে গিয়েছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটর ব্যস্ত সূচীর ফাকে ফাকে বাচ্চাদের প্রশিক্ষণ দিতে ছুটে যান একডেমির মাঠে।

শৈশবে নিজে খুব একটা আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পাননি অশ্বিন। আগামী প্রজন্ম সেই একই সমস্যায় পড়ুক সেটা তিনি চাননা। তাই মাঠ ভাড়া নিয়ে দ্রুত শুরু করে দেন অ্যাকডেমির কাজ। আরও চমকে ওঠার মত ব্যাপার হলো, সম্প্রতি অশ্বিন লেভেল থ্রি কোচিং কোর্স কমপ্লিট করেছেন!
অশ্বিনের এই অ্যকাডেমিত এখন প্রায় দেড়শ জনের মত ছাত্র আছে। মোট পাঁচ পর্বে চলে কোচিং। যেগুলোর মধ্যে একটি পর্বের নাম আবার ভিশন ২০২০! বিজ্ঞানসম্মতভাবে কোচিং করানোর পুরো প্ল্যানআপ অশ্বিন নিজেই তৈরি করেছেন। কোচিং টিমে অন্তর্ভুক্ত করেছেন দুবাইয়ের আইসিসি অ্যাকাডেমি থেকে পাশ করে আসা বেশ কয়েকজনকে। প্রত্যেক ব্যাচে ১৫জন করে খুদে ক্রিকেটার এবং একজন করে কোচ। এভাবেই অশ্বিন এগিয়ে যাচ্ছেন তার লক্ষ্যের দিকে।
ইত্তেফাক/রেজা
