ব্রেক্সিট নিয়ে বিপাকে মে

আরো সময় দিতে রাজি ইইউ

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২৬

 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা বলেছেন, ব্রেক্সিটের পুরো প্রক্রিয়াটি যেন হাত ফসকে বেরিয়ে না যায় সেজন্য তিনি বিরোধী লেবার পার্টির দারস্থ হয়েছিলেন। শনিবার রাতে তার দফতর থেকে ইস্যু করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চুক্তিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসা অথবা আদৌ বিচ্ছেদ না ঘটার মতো দুটো বিপরীত বিকল্প তার সামনে ছিল।

হাউস অব কমন্সে মে’র এ সম্পর্কিত চুক্তিটি তিনবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর লেবার পার্টির কাছ থেকে সহযোগিতা চাওয়ায় ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির কোনো কোনো এমপি সমালোচনা করেছেন। পার্লামেন্টে বিভিন্ন দলগুলোর মধ্যে গত সপ্তাহে টানা তিনদিন আলোচনা চললেও শুক্রবার তা কোনো মতৈক্য ছাড়াই শেষ হয়। লেবার নেতা জেরেমি করবিন মনে করেন, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থানে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি। এ বিষয়ে ইইউর সঙ্গে যে চুক্তিই করা হোক না কেন তাতে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছানোর পর সেটি গণভোটে দেওয়ার জন্য দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে লেবার পার্টি এ ব্যাপারে অধিক সোচ্চার। পার্টির ৮০ জনাধিক এমপি যৌথভাবে এ বিষয়ে একটি চিঠি করবিনকে দিয়েছেন।

বিবৃতিতে মে বলেন, গত বছর ইইউর সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে রাজি করানোর জন্য তিনি নিজের দল এবং সমর্থক উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডিইউপি বোঝাতে সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাতে সফল না হওয়ায় তিনি এখন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে এখন হাউস অব কমন্স সদস্যদের রাজি করানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

আগেই বলা হয়েছিল ২৯ মার্চের মধ্যে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে যুক্তরাজ্য। এমপিদের সমর্থন না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি এখন ব্রেক্সটেনশনে নামে পরিচিতি পাচ্ছে। ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে ইইউর কাছ থেকে আরো সময় নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়েছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে। ১ এপ্রিল পার্লামেন্টে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন মে। সেদিন ভোটাভুটিতে ব্রেক্সিট বিষয়ে কোনো চুক্তি ছাড়া যুক্তরাজ্য ১২ এপ্রিলের মধ্যে ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট দেন ৩১২ জন এমপি। অন্যদিকে সময় নেওয়ার পক্ষে ভোট দেন ৩১৩ জন এমপি। ফলে ১ ভোটে পাস হয় মে’র প্রস্তাব। এদিকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে ইইউ ব্রিটেনকে ১২ মাস সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দিতে পারে। ইউরোপীয় কমিশন প্রধান ডোনাল্ড টাস্ক চান এই সময়ের মধ্যে পার্লামেন্ট যদি কোনো চুক্তিতে অনুমোদন দেয়, তাহলে ব্রিটেনকে একতরফাভাবে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহে ইইউ নেতারা বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসছেন। এর জন্য দ্বিতীয় দফায় ডোনাল্ড টাস্ককে চিঠি দিয়েছেন মে। অনুরোধ করেছেন ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর। চিঠিতে মে লিখেছেন, ‘সংকটপূর্ণ এ অবস্থাকে চলতে দেওয়া যায় না।’ তিনি মনে করেন এর মধ্য দিয়ে ব্রিটেনে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। টাস্ককে লেখা চিঠিতে মে লিখেছেন, ইইউর মতামত গ্রহণ করছে ব্রিটেন। ২৩ মে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচন। ওই সময় পর্যন্ত ব্রিটেন যদি ইইউর সদস্য থাকে তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে। এর আগে যদি বেরিয়ে যেতে পারে তবে ইইউকে ওই নির্বাচন পিছিয়ে দিতে হবে।