যেভাবে তিনি আজকের সোফিয়া

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২৭

 

সোফিয়া রেজ। মেক্সিকোর এক সাধারণ পরিবারে জন্ম তার। বাবা-মা দুজনেই ছিলেন গানের পাগল। সেই পাগলামি মেয়ের মাঝেও সঞ্চারিত হয়। মাত্র ৬ বছর বয়সে পিয়ানোতে তার হাতেখড়ি। তারপর শুরু হয় তার নিরন্তর সঙ্গীত সাধনা। মেয়ের অসাধারণ সুরেলা গলা শুনে বাবা-মার মনে জাগলো আশা- একে দিয়েই আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবে। বাবা ছিলেন একজন সৌখিন গাইয়ে। একটা ছোট্ট রেকর্ডিং স্টুডিও আছে তার। সেই স্টুডিওতে মেয়ের একটা গানের অ্যালবাম করে ফেললেন তিনি। সেই অ্যালবামে সোফিয়ার সাথে গিটার বাজায় তার সবচেয়ে কাছের এক বন্ধু। অ্যালবামটা আর বার করা হয়নি। স্থানীয় এক রেকর্ড কোম্পানিতে অ্যালবামটা নিয়ে যাওয়ার পর তারা তাদের হাঁকিয়ে দেয়। বলে, ‘দূর, তোমরা তো একেবারেই ছোট। শিল্পী হিসেবে তোমরা কেমন তা আগে তোমাদের বুঝতে হবে।’ একথা শুনে সোফিয়া সারাদিন কেঁদেছিল। তবে সে ভেঙে পড়েনি। এলাকার এক ক্যাফেতে বন্ধুকে নিয়ে যায় সে এবং ক্যাফে মালিককে তাদের গান শুনিয়ে নিয়মিত সেখানে গান গাওয়ার অনুমতি আদায় করে সোফিয়া। অ্যালবামের চমত্কার গানগুলো এবং সেইসঙ্গে কিছু কাভার সং ক্যাফেতে নিয়মিত গাইতে থাকে সে। তার সুরেলা কণ্ঠ সবাইকে মুগ্ধ করে। মূলত স্প্যানিশ ভাষাতেই গান করে সে। তবে আমেরিকার প্রতিবেশী হিসেবে সেদেশের সংস্কৃতির দ্বারা ভালোভাবেই প্রভাবিত মেক্সিকোর মানুষ। সোফিয়াও এর ব্যতিক্রম নয়। স্প্যানিশ গানের পাশাপাশি ইংরেজি গানও সে অবলীলায় গেয়ে যেতে পারে। কিন্তু ক্যাফের ক্ষুদ্র পরিসরে গান গেয়ে সোফিয়া সন্তুষ্ট হতে পারছিল না। তার মূল টার্গেট ছিল আমেরিকার বিশাল গানের বাজার। তবে এক লাফে তো আর এভারেস্টে ওঠা যায় না! আমেরিকার বিশাল শোবিজ জগতে এগুতে হবে ধীরে ধীরে, ধৈর্যসহকারে। তাহলেই যদি সাফল্য মেলে! সোফিয়াও সেটা জানতো। প্রথমে সাহসে বুক বেঁধে লস এঞ্জেলেসে চলে আসলো সে। সঙ্গে করে নিয়ে আসলো তার দুই ম্যানেজার চার্লি ও পালোমাকে। এলএ’র জীবনের সঙ্গে অভ্যস্ত হতে সোফিয়ার তিন তিনটা বছর লেগে গেলো। সেখানে থিতু হতে হতে সোফিয়া এলএ’র শোবিজ জগতেও একসময়ে ঢুকে গেলো। একই সঙ্গে সোফিয়া তার নিজের ইউটিউব চ্যানেল ওপেন করলো এবং সেখানে ইংরেজি-স্প্যানিশ ভাষার বিভিন্ন কাভার সং গাইতে থাকলো। সুন্দরী সোফিয়ার চমত্কার গায়কীতে শ্রোতারা হলো মুগ্ধ। এরপর তার ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা কেবল বাড়তেই থাকলো। এক পর্যায়ে তার গাওয়া স্প্যানিশ গান ‘কুই নস পাসো’ শুনে প্রখ্যাত গায়ক প্রিন্স রয়েস সোফিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলো এবং নিজের ডি’লিয়ন রেকর্ড লেবেলের আওতায় ওয়ার্নার মিউজিকের সঙ্গে সোফিয়ার চুক্তি করিয়ে দিলো। এই দুজনের ডুয়েট সং ‘সোলো উয়ো’ ২০১৬ সালে ল্যাটিন পপ চার্টে শীর্ষস্থান দখল করলো। স্পটিফাই-তে অতিদ্রুত সোফিয়া সবচেয়ে বড় মেক্সিকান শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলো। মাসে তার গানের শ্রোতার সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখে পৌঁছালো। গতবছর তার দেশের অফিসিয়াল ওয়ার্ল্ড কাপ সং ‘ভ্যামোস পর লা এস্ট্রেলা’ গাওয়ার জন্য সোফিয়াকেই বাছাই করা হয়।

ল্যাটিন গানের বাজার মাত করার পর ২০১৯-এ সোফিয়ার টার্গেট পুরো বিশ্বকে জয় করা। এবং সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সোফিয়া সম্প্রতি ইউটিউবে ছেড়েছে তিন ভাষার গান RIP যেটা মাত্র দুই সপ্তাহে ৩ কোটি মানুষ দেখেছে ও শুনেছে। বিবিসি রেডিওর ‘বেস্ট নিউ পপ’ গানের তালিকার ১ নম্বর স্থানটি এখনো ধরে রেখেছে RIP। সোফিয়ার সঙ্গে এই গানে কণ্ঠ দিয়েছে আরও দুজন শিল্পী। এরা হলো: ব্রাজিলিয়ান গায়িকা অ্যানিটা এবং আলবেনিয়ান-ব্রিটিশ পপস্টার রিটা ওরা। ২৩ বছর বয়সী সোফিয়া বলে, আমি চেয়েছিলাম এমন একটা আনন্দের গান বানাতে যা শুনে আপনার নাচতে ইচ্ছা করবে এবং সেইসঙ্গে গানের বক্তব্য আপনাকে ভাবাবেও। গানের মূল বক্তব্যটা হলো: পৃথিবীটা বদলাতে হলে আগে আমাদের নিজেদেরকে বদলাতে হবে। নিজেদের খারাপ দিকগুলো দূর করতে হবে।  সূত্র: বিবিসি