ইসরাইলি টার্গেট নিষ্পাপ শিশুরা

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২৮

 

দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি শিশুরাই এখন ইসরাইলি সেনাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। প্রতিদিনই কোনো না কোনো ফিলিস্তিনিকে আটক করে কারাগারে পাঠাচ্ছে ইসরাইল। শুধু কারাগারে আটকে রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না ইসরাইলিদের এই নির্মমতা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব শিশুদের ওপর চালানো হচ্ছে শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন। আটকের পর অকথ্য নির্যাতন ছাড়াও তাদের দীর্ঘ সময় ঘুমাতে দেওয়া হয় না। অথচ কোনো ইসরাইলি শিশুর বিচার সামরিক আইনে করা হয় না। পাথর ছোড়ার জন্য তাদের বয়সের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয় ১০ থেকে ২০ বছরের জেল। ইসরাইলি কারাগারে বন্দি থাকাবস্থায় নির্যাতনে মৃত্যুও হয় অনেক শিশুর।

২০১৮ সালে অন্তত ৫৬ ফিলিস্তিনি শিশু ইসরাইলিদের হাতে হত্যার শিকার হয়েছে। এসব শিশুর জন্য আইনজীবীও নিয়োগ দিতে পারে না তাদের অভিভাবকরা। ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি বেসরকারি সংস্থা জানিয়েছে, গত চার বছরে ৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। বিভিন্ন অভিযানের সময় ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য থাকে শিশুকিশোররা। শিশুদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায় সেনারা। সে সময় আহত কিংবা অজ্ঞান হয়ে পড়া শিশুদের আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ ও প্রতিবাদ করা। এর পাশাপাশি প্রায় প্রতি রাতেই বিশেষ অভিযান চালায় ইসরাইলি সেনারা।

উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এখানকার শিশুরা প্রতিমাসে অন্তত একবার গ্রেফতার ঝুঁকিতে থাকে। অভিযানে আটক শিশুদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় আটক কেন্দ্রে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের খাবার ও পানি বঞ্চিত করে রাখা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কারাগারে পরিবারের সদস্যদের সাথেও শিশুদের দেখা করতে দেওয়া হয় না। আরো একটি গুরুতর অভিযোগ, ফিলিস্তিনি শিশুরা হিরু ভাষা না জানলেও তাদের হিরু ভাষায় লেখা বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া শিশুরা হয়ে পড়ছে মানসিকভাবে অসুস্থ ও অস্বাভাবিক। ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না, স্কুলের স্বাভাবিক লেখাপড়ায়ও মনোযোগ দিতে পারে না। এসব শিশুদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, যে কোনো ঘটনাতেই অল্পতে রেগে যায়।

আজকের এই শিশুরাই ফিলিস্তিনের ভবিষ্যত্। এ কারণেই ফিলিস্তিনের এই প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিতে এতটা আগ্রাসন চালায় ইসরাইলি সেনারা। কোনো দিন যাতে ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে তার জন্যই শিশুদের ওপর এমন অমানবিক আচরণ। এর মাধ্যমে তারা এমন একটি প্রজন্মকে পঙ্গু করে দিতে চায়, ইসরাইলবিরোধী লড়াই চালু রাখতে পারে। বেশ কয়েক বছর আগেও প্রতিবছর গড়ে ৭শ ফিলিস্তিনি শিশু আটকের ঘটনা ঘটত। কিন্তু গত চার বছরে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। আরো একটি আশঙ্কার বিষয়, আটক ফিলিস্তিনি শিশুদের বিচার প্রক্রিয়া। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলের জবরদখলকৃত ফিলিস্তিনি শিশুদের বিচার করা হয় সামরিক আইনে। বিশ্বের একমাত্র দেশ ইসরাইল যেখানে শিশুদের বিচার হয় সামরিক আইনে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে ফিলিস্তিনি শিশুদের অধিকার রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার।