লিবিয়ায় নতুন করে সংকটের হাতছানি

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২৮

 

২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর ছিটেফোটা সংঘর্ষ বাদে লিবিয়া পরিস্থিতি তেমন একটা উত্তপ্ত ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়া পরিস্থিতি ফের অশান্তের দিকে মোড় নিচ্ছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বিদ্রোহী বাহিনী এলএনএ (লিবারেশন ন্যাশনাল আর্মি) রাজধানী ত্রিপোলীর দিকে রওনা হওয়ায় এই সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে। এরইমধ্যে সেখানকার একটি বিমানবন্দরের কাছে সরকারি বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় জাতিসংঘ ও জি-৭ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জি-৭ সকল পক্ষকে তাদের সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছেন, অবিলম্বে এ সংঘর্ষ বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় এর জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। জাতিসংঘও লিবিয়া সংকট নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। বিদ্রোহীদের নেতা খলিফা হাফতার তাদের বাহিনী এলএনএকে ত্রিপোলীতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, এলএনএ ত্রিপোলীর নিরাপত্তা সীমানার কাছে সাঁজোয়া যান নিয়ে পৌঁছে গেছে। বিদ্রোহী দলের পূর্বাঞ্চলীয় অভিযানের প্রধান জেনারেল আব্দেসালেম আল-হাসসি বলেছেন, পশ্চিমাঞ্চলে সন্ত্রাসী ও ভাড়াটে গুন্ডাদের বিতাড়নে যা যা করা দরকার তা-ই তারা করবেন। আর এজন্য তাদের কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাফতার সমর্থিত বাহিনী ১৫ ট্রাক বিমান বিধ্বংসী বন্দুক নিয়ে রাজধানী ত্রিপোলীর ২৭ কিলোমিটার দূরবর্তী ‘ব্রিজ ২৭’ নামে খ্যাত নিয়ন্ত্রক স্থানে অবস্থান নিয়েছে। ইতোমধ্যেই রাজধানীর মিলিশিয়া বাহিনী ‘ত্রিপোলী প্রটেকশন ফোর্স’-এর যোদ্ধারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এলএনএ বাহিনীর অগ্রযাত্রা প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে।

লিবিয়া সংকট সমাধানে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস যেদিন ত্রিপোলী গেলেন সেদিনই বিদ্রোহীদের নেতা হাফতার তার অনুসারীদের সর্বশক্তি দিয়ে ত্রিপোলীর দিকে যাত্রা করার নির্দেশ দেন। তিনি তাদেরকে জানিয়ে দেন যে, সন্ত্রাসীদের কোনো ছায়া সেখানে আর থাকতে দেওয়া হবে না। হাফতার বলেন, তাদের বাহিনী ততদিন পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে যতদিন শত্রুরা পরাজিত না হয়। এ ঘটনার আগে এলএনএ ত্রিপোলীর দক্ষিণাঞ্চলীয় ঘারইয়ান শহরটি দখল করে নেয়। এটি রাজধানী থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। সেখান থেকে তাদের সৈন্যরা জানায়, তারা রাজধানীর একটি বিমানবন্দর দখল করে নিয়েছে। বিমানবন্দরটি ২০১৪ সাল থেকে বন্ধ ছিল। ত্রিপোলীর পূর্বাঞ্চলীয় মিশরাতার অধিবাসীরা জানান, মিলিশিয়ারা রাজধানীতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। সেখানে বেশ রক্তপাত হয়েছে বলেও তারা জানান। এদিকে ত্রিপোলী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইতোমধ্যে বেশ কিছু এলএনএ বিদ্রোহীকে বন্দী করতে সক্ষম হয়েছেন। তারা আশা করছেন, শত্রুপক্ষ তাদের উদ্দেশ্যে সফলকাম হবে না। এলএনএ’র এই অভিযান এবারই প্রথম নয়। এর আগেও চলতি বছরে বেশ কয়েকবার এ ধরনের অভিযান পরিচালনা হয়েছিল। সেসময় তারা লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি এলাকা এবং একটি তেলক্ষেত্র দখল করে নেয়।

বিবিসির আরব বিষয়ক সম্পাদক সেবেস্তিয়ান উশার এ সংকট নিয়ে তার মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে অতটা জটিল আকার ধারণ না করলেও এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল খারাপ হতে বাধ্য। কেননা বিদ্রোহীদের যেভাবে ত্রিপোলীর দিকে হামলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাতে সামনে যে অত্যন্ত খারাপ দিন অপেক্ষা করছে সেটাই স্বাভাবিক। বিদ্রোহীরা এরই মধ্যে দক্ষিণের একটি বিমানবন্দর দখল করে নিয়েছে। সেখানে এখনও সংঘর্ষ চলছে। তাই পরিস্থিতি যে ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে, বিদ্রোহীরা পশ্চিম দিক থেকে কিছুটা পিছু হটেছে। তবে এখনও এটা অস্পষ্ট যে হাফতার বাহিনী ত্রিপোলীতে কতটা সফল হতে পেরেছে। কেননা এখনো ভিন্ন ভিন্ন সূত্র থেকে অনেক খবর আসছে। সেবেস্তিয়ান বলেন, এলএনএ নেতা হাফতারের আবার প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো তিনি শক্তিশালী একটি মিলিশিয়া বাহিনীর প্রধান। তার নির্দেশেই এখন ত্রিপোলীতে সংঘর্ষ চলছে। বিশ্বব্যাপী হাফতারের এ হামলা নিয়ে নিন্দা জানানো হলেও তাকে কিন্তু আবার অনেকে সমর্থনও করছে। এরমধ্যে উঠে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরের নাম।