আবারো পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী জনসভায় হাজির হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে আক্রমণ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, রাজ্যের জনগণের কল্যাণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্কিম বাতিল করেছেন মমতা ব্যানার্জি। একইসঙ্গে সারদা, নারদা ও রোজভ্যালি কেলেঙ্কারি করে জনগণের ক্ষতি করেছেন। চুরি করা প্রতিটি পয়সার হিসাব এই চৌকিদার (মোদি নিজে) নেবে। অন্যদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, বেনারসে গঙ্গা পরিষ্কার করতে পারেন না, তিনি পশ্চিমবঙ্গ কীভাবে সামলাবেন?? প্রধানমন্ত্রী মোদি বসন্তের কোকিল। ভোট এলেই পশ্চিমবঙ্গে আসেন। ভোট শেষ হলে চলে যান। এদিকে উত্তর প্রদেশের দেওবন্দে সমাজবাদী পার্টি-বহুজন সমাজ পার্টির জোটের প্রথম জনসভায় কংগ্রেস এবং বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী ও অখিলেশ যাদব। তারা বিজেপিকে হারাতে জোটের প্রার্থীদের ভোট দিতে মুসলিমদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারণা আর রাজনৈতিক নেতাদের বাগযুদ্ধে জমে উঠেছে ভারতের লোকসভা নির্বাচন। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে সাত ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে টার্গেট করেছে। তারই অংশ হিসেবে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার পশ্চিমবঙ্গে আসেন মোদি।
গতকাল তিনি বলেন, ফুফু মমতা ও ভাতিজা অভিষেক জুটি পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশকারীদের স্বর্গরাজ্য বানিয়েছে। দেশকে ভাগ করতে চায় এমন দলের সঙ্গে মমতা জোট করেছেন। সাধারণ মানুষকে সভায় আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তারপরও এত মানুষ ভিড় করেছেন, এটাই দিদির পরাজয়। মোদি বলেন, ?রাজনৈতিক ফায়দার জন্য ঘুষখোরদের রক্ষা করতে মানুষের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছেন মমতা।
অন্যদিকে জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে মমতা ব্যানার্জি পাল্টা আক্রমণ করে বলেছেন, সিবিআই-আয়কর বিভাগ দিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হানা দেওয়া হচ্ছে। ভারতের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন অসৌজন্যমূলক প্রধানমন্ত্রী আমি আগে দেখিনি। তিনি (মোদি) অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্য সচিবকে বদলি করেন কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে বদলি করেন না।
