লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বা যকৃত্ প্রতিস্থাপনে বাংলাদেশের রোগীদের আর বিদেশমুখী হতে হবে না। রোগী কিংবা স্বজনদের জন্য আশার বাণী— দেশেই খুব শিগগির চালু হচ্ছে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সেবা। প্রথমবারের মতো দেশে এই সুবিধা চালু হচ্ছে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রাজধানীর মহাখালীতে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে।
সারা বিশ্বেই ব্যয়বহুল এক চিকিত্সাসেবা যকৃত্ প্রতিস্থাপন। কোনো ব্যক্তির রোগাক্রান্ত লিভার অপসারণ করে সেই স্থানে দাতা ব্যক্তির সম্পূর্ণ অথবা আংশিক সুস্থ লিভার প্রতিস্থাপন করাকে যকৃত্ প্রতিস্থাপন বলা হয়। দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগ অথবা স্বল্পমেয়াদি মারাত্মক লিভার রোগের কারণে কোনো ব্যক্তির যকৃতের কার্যকারিতা একেবারে কমে গেলে অথবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে যকৃত্ প্রতিস্থাপনের কথা বিবেচনা করা হয়। অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই চিকিত্সাসেবা দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে ছিল।
কিন্তু অত্যাধুনিক শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে বিশ্বমানের সেবা পাবেন রোগীরা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, দরিদ্র শ্রেণির মানুষও লিভার ট্রান্সপ্লাট করতে পারবেন। মাত্র ১০ টাকার টিকিটের বিনিময়ে পাবেন বিশ্বমানের চিকিত্সাসেবা।
বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা জানান, সাধারণত যেসব রোগের কারণে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট দরকার হয় সেগুলো হলো- হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি ভাইরাসজনিত লিভার সিরোসিস, প্রাইমারি স্কেরোজিং কোলেনজাইটিস, প্রাইমারি বিলিয়ারি সিরোসিস, মেটাবোলিক ডিসঅর্ডার এবং শিশুদের বিলিয়ারি অ্যাটরেশিয়া (পিত্তনালি শুকিয়ে যাওয়া) ইত্যাদি। এছাড়া ভাইরাল ইনফেকশন অথবা কোনো ওষুধ বা মদ্যপানের কারণে হঠাত্ স্বল্পমেয়াদি লিভার অকার্যকর হলেও অনেক ক্ষেত্রে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন হতে পারে। কোনো কোনো প্রাথমিক লিভার ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়। অন্যদিকে ভেজাল কিংবা রাসায়নিক সংমিশ্রণে তৈরি খাদ্য সামগ্রী খেলে লিভার নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা বেশি বলে চিকিত্সকরা জানান।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। কিডনি ইনস্টিটিউট, মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউট, ইএনটি, শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জন এবং সবশেষ শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্যাডিয়াট্রিক সার্জারি ইনস্টিটিউট প্রকল্প একনেকে পাস হয়ে গেছে। বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও পরিপাকতন্ত্র, লিভার ও প্যানক্রিয়াসজনিত গ্যাস্ট্রো ইন্টেসটাইনাল রোগের প্রকোপ রয়েছে। ভেজাল খাদ্য সামগ্রী, জলবায়ু ও পরিবেশগত বিভিন্ন কারণে গ্যাস্ট্রো ইন্টেসটাইনালজনিত রোগীর সংখ্যা বাংলাদেশে বাড়ছে। তাই পরিপাকতন্ত্র, লিভার ও প্যানক্রিয়াসজনিত গ্যাস্ট্রো ইন্টেসটাইনাল রোগে আক্রান্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালটির উদ্বোধন করেন। ১০ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক এ হাসপাতালের কার্যক্রম চালু হওয়ার ফলে রোগীরা বিশ্বমানের সেবা পাচ্ছেন। ২১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর কেবিন রয়েছে ১৯টি।
