কপোতাক্ষ নদে বাঁশের সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় পারাপারে ভোগান্তি

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:৫২

উপজেলার সীমান্তবর্তী কানাইদিয়া-কপিলমুনির পারাপারের একমাত্র সেতুবন্ধন বাঁশের সাঁকো ভেঙে নদীতে পড়েছে গত বৃহস্পতিবার। গত তিন/চারদিনেও মেরামত না হওয়ায় পারাপারের ভোগান্তিতে পড়েছে দু’পাড়ের মানুষেরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, ভেঙে পড়া বাঁশের সাঁকোর পাশ দিয়ে বিকল্প কোনো পথ না থাকায়, নদীতে এখন দু’পাড়ের স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ঐ এলাকার চেয়ারম্যান এম.মফিদুল হক লিটু বলেন, সকল পারাপারের যাত্রীদের বিকল্প নৌকা দিয়ে  কোনোরকম পার হতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সামনে পূজায় প্রতিমা বিসর্জনের দিনে দু’পাড়ের মানুষের মিলন মেলা ধূলিসাত্ হতে চলেছে শুধুমাত্র এ বাঁশের সাঁকো ভেঙে যাওয়ার ফলে।

জানা যায় যে, কপোতাক্ষ নদ খনন করার পর জোয়ার-ভাটার স্রোতগতি বৃদ্ধি পেয়েছে, সেইসঙ্গে যশোর-কেশবপুর-তালা থানা এলাকা হতে কচুরিপানা শ্যাওলা ভেসে আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে, ফলে ঐ শ্যাওলা এবং স্রোত দুটি মিলে কানাইদিয়ার বাঁশের সাঁকোতে আঘাত আনলে সাঁকোটি ভেঙে পড়েছে বলে জানান, কানাইদিয়া খেয়াঘাট ইজারাদার শুকুর আলী। তিনি আরো জানান, যে নদীর গতি স্রোতের জন্য মেরামতের কাজ করা যাচ্ছে না।

বাঁশের সাঁকোর বিষয় কপিলমুনি প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামসুল আলম পিন্টু এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমার বাড়ি কানাইদিয়া গ্রামে। শুধুমাত্র পারাপারের ভোগান্তির জন্য আজ হতে ২৫ বছর যাবত্ কপিলমুনি বাজারে বাসা ভাড়া করে বসবাস করছি। একই কথা বিশিষ্ট শিল্পপতি শেখ আনারুল ইসলাম বলেন, একটা বেইলী ব্রিজের জন্য স্বাধীনতার পর হতে এ পাড়ের মানুষ দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু  সরকার আসে-যায় তারপরও সেতুর কোনো খবর নেই। কানাইদিয়ার কৃষ্ণকাটি স্কুলের সহকারী শিক্ষক পার্থ হালদার ও ঐ গ্রামের ইউপি সদস্য কালীনাথ বলেন, সমস্যা এখন শুধু কানাইদিয়া গ্রামের জন্য নয়, এটা এখন ঐ অঞ্চলের জন্য সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার আগে কপিলমুনি বাজারের প্রতিষ্ঠাতা রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু নিজ খরচে কপোতাক্ষ নদে সেতু নির্মাণ করতে গেলে, কানাইদিয়া গ্রামের কিছু দুষ্ট বুদ্ধির লোকের কারণে সে স্বপ্ন ভেঙে যায়। যার খেসারত এখন ডিজিটাল যুগের প্রজন্মকে ভোগ করতে হচ্ছে। কারণ সেতু নির্মাণ হয়েও হলো না কপোতাক্ষ নদে, শুধুই ভিত্তি স্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু