কুমিল্লায় হত্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে কারামুক্তি পেতে হলে আরো চারটি মামলায় জামিন পেতে হবে। এর মধ্যে দুটি মামলা দুর্নীতির অভিযোগে। বাকি দুটি মানহানির অভিযোগে ব্যক্তি বিশেষ দায়ের করেছেন। এ দুটি মামলায় নিম্ন আদালত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
তবে খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, এখন নতুন করে কোনো মামলা না হলে জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন পেলেই খালেদা জিয়ার মুক্তিতে আর বাধা থাকবে না। তবে সরকারের বাধার কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পাওয়া কঠিন হবে। তিনি বলেন, প্যারোলের বিষয়টি রাজনৈতিক। এখানে উনি প্যারোলে যাবেন কি না এবং সরকার প্যারোল দেবেন কি না, এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আমরা আইনজীবী হিসেবে বলতে পারি, চিকিত্সার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাওয়া যায়। ভারত ও পাকিস্তানে প্যারোলে যাবার নজির আছে।
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় আট যাত্রী নিহত হয়। আহত হয় অনেকে। এ ঘটনায় করা মামলায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নাকচ করে কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ। এর বিরুদ্ধে আপিল করলে গত ৬ মার্চ বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেয়। এই জামিন বাতিল চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আবেদনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এ জে মোহাম্মদ আলী শুনানি করেন। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের জামিন সংক্রান্ত আদেশ বহাল রাখে বলে জানান বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
প্রসঙ্গত জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সংক্রান্ত দুটি দুর্নীতির মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় ঢাকার বিশেষ আদালত। ওইদিন থেকে তিনি কারাগারে আছেন। পরে হাইকোর্ট আপিলের রায়ে ওই দণ্ড বাড়িয়ে ১০ বছর সাজা দেয় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদা জিয়া আপিল দায়ের করেছেন। এতে তিনি জামিন চেয়েছেন। এখনো আপিলটি শুনানির জন্য চেম্বার জজ আদালতে পেশ করা হয়নি। এছাড়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনকে। এই রায়ের বিরুদ্ধে তার আপিল হাইকোর্টে বিচারাধীন।
