আজীবন অভিনয় দিয়ে মানুষকে হাসিয়েছেন, মুগ্ধ করেছেন গান গেয়েও। সেই হাসির নায়ক টেলি সামাদ শেষ বিদায় নিলেন সবাইকে কাঁদিয়ে। যে এফডিসিতে টেলি সামাদের উপস্থিতি মানে ছিল সবার জন্য আনন্দ আর মজার ঘটনা, সেখানে গতকাল রবিবার তিনি এলেন নিথর দেহ নিয়ে। আনন্দের বদলে এফডিসিতে ছড়িয়ে পড়ে কান্নার রোল। প্রিয় সহকর্মী?কে শেষ বিদায় জানাতে ছু?টে এসেছিলেন চলচ্চিত্রের সর্বস্তরের কলাকুশলী। তারা শেষ শ্রদ্ধা জানালেন টেলি সামাদকে। শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পর এই কিংবদন্তি শিল্পীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে।
গত শুক্রবার দুপুর দেড়টায় টেলি সামাদ রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ শোক প্রকাশ করেন।
শুক্রবার রাতে ঢাকার বাসভবনের পাশের মসজিদে টেলি সামাদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এফডিসিতে দ্বিতীয় এবং পরে শিল্পীর জন্মস্থান মুন্সীগঞ্জ সদরের নয়াগাঁও গ্রামের বাড়িতে তৃতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়
গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় টেলি সামাদের মরদেহ নিয়ে আসা হয় এফডিসিতে। চলচ্চিত্র অভিনয় শিল্পী সংসদের উদ্যোগে এখানে শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের আয়োজন করা হয়। এখানে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির অঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠন ও অভিনেতা-অভিনেত্রী, কলাকুশলীরা শিল্পীর কফিনে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
প্রথমে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তথ্যসচিব আবদুল মালেক ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং এফডিসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শ্রদ্ধা জানান। পরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। অন্যান্যের মধ্যে সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান (নায়ক ফারুক), আলমগীর, ইলিয়াস কাঞ্চন, উজ্জ্বল, অমিত হাসান, অঞ্জনা, রফিকুল আলম, ফকির আলমগীর, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান গুলজার, চলচ্চিত্র পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু ও কাজী কামালসহ চলচ্চিত্র অভিনেতা ও অভিনেত্রীরা শ্রদ্ধা জানান।
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পর বলেন, দেশের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের এক মেধাবী শিল্পীকে আমরা হারালাম। তিনি একই সঙ্গে অভিনেতা, গানের শিল্পী, চিত্রপরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রশিল্পী। এতো বড় এক গুণী শিল্পী তার সাধনার মধ্য দিয়ে যে নিদর্শন রেখে গেলেন, তার কাজকে অনুসরণ করে নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা যদি নিজেদের গড়ে তুলতে পারেন, তাহলেই তাঁকে প্রকৃত সম্মান জানানো হবে।
নায়ক ফারুক বলেন, অনেক বড় মাপের একজন অভিনেতা টেলি সামাদ। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে। দীর্ঘদিন ছবিও এঁকেছেন। কয়েকশ ছবিতে অভিনয় করেন। গান লিখেছেন, শতাধিক ছবিতে গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। ছবি পরিচালনা করেছেন। এতো বিষয়ে তার মেধা ছিল কল্পনাই করা যায় না। তার স্মৃতিকে ধরে রাখতে হবে।
