ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুননির্বাচিত হলে পশ্চিম তীরের সব ইহুদি বসতিকে ইসরাইলের অংশ করে নেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কাল মঙ্গলবার ইসরাইলে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে দক্ষিণপন্থী দলগুলোর সঙ্গে যারা চায় পশ্চিম তীরের অংশবিশেষ ইসরাইল নিজের সীমানার মধ্যে ঢুকিয়ে নিক। তুরস্ক নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে উল্লেখ করেছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের
একটি ইসরাইলি টেলিভিশনে সাক্ষাত্কার দেওয়ার সময় নেতানিয়াহুকে জিজ্ঞেস করা হয় কেন তিনি পশ্চিম তীরের বিরাট ইহুদি বসতি পর্যন্ত ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করছেন না। জবাবে তিনি বলেন, আমি ইসরাইলি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করবো এবং আমি গুচ্ছ বসতি এবং বিচ্ছিন্ন বসতির মধ্যে কোন তফাত্ করি না।
পশ্চিম তীরে ইসরাইল যেসব ইহুদি বসতি গড়ে তুলেছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সেগুলো অবৈধ। তবে ইসরাইল তা মনে করে না। পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিগুলোতে প্রায় চার লাখ ইহুদিকে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে ইসরাইল। পূর্ব জেরুজালেমেও একইভাবে ২০ হাজার ইহুদির জন্য বসতি গড়ে তোলা হয়েছে। পশ্চিম তীরে থাকে প্রায় ২৫ লাখ ফিলিস্তিনি। যে ভবিষ্যত রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখে ফিলিস্তিনিরা, সেটি হওয়ার কথা পশ্চিম তীর এবং গাজা ভূখন্ড নিয়ে। আর তাদের রাজধানী হওয়ার কথা পূর্ব জেরুজালেম। ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, যে ঘোষণা বা যে পদক্ষেপই নেওয়া হোক, তাতে সত্য বদলাবে না। এই ইহুদি বসতিগুলো অবৈধ এবং এগুলো অপসারণ করা হবে। এদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কেভুসোগলু বলেছেন, পশ্চিম তীর ফিলিস্তিনের অংশ এবং ইসরাইল এটা অবৈধভাবে দখল করেছিল। নেতানিয়াহুর দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য কেবলই নির্বাচনে জেতার জন্য।
