দ্রুততার সঙ্গে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ফল প্রকাশের জন্য ক্রয় করা ট্যাব এখন উল্টো ফল দিচ্ছে। উপজেলা নির্বাচনে ৪৬ কোটি টাকায় কেনা ৪২ হাজার ২শ ট্যাব কাজে আসছে না। এই ট্যাবের মাধ্যমে ফলাফল পাঠাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। ম্যানুয়ালি যেসব উপজেলার ফল প্রকাশ করতে যত সময় দরকার তার চেয়েও ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় বেশি লেগেছে ট্যাবের মাধ্যমে ফল পাঠাতে। ফল প্রকাশের বিলম্বের ত্রুটি চিহ্নিত করার পর উপজেলা নির্বাচনের চতুর্থধাপে ট্যাব ব্যবহার থেকে বিরত থেকেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিম্নমানের ট্যাব ব্যবহার এবং প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে এই জটিলতার তৈরি হয়েছে। ফল ব্যবস্থাপনায় যে ট্যাবের ব্যবহার করা হয়েছে তা চায়নার একটি কোম্পানির। ত্রুটির কারণে সেই কোম্পানির ট্যাবের ব্যবহার আপাতত কমেছে। তারপরও ওই কোম্পানির ট্যাব ক্রয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া ট্যাব ব্যবহারের আগে পরীক্ষামূলক প্রকল্প গ্রহণ করার দরকার ছিল। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণেরও। কিন্তু ইসি থেকে এসবের কিছুই না করে অপরিকল্পিতভাবে ট্যাব কিনে এখন বিপাকে পড়েছে।
বুয়েটের উদ্ভাবিত প্রায় সাড়ে ১১শ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নষ্ট করে নিজেদের তৈরি ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয় কমিশনে। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ইসি দেড় লাখ ইভিএম কেনার জন্য ৩ হাজার ৮২১ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি এসব ইভিএম সরবরাহ করে। বিএনপিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা সত্ত্বেও গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে ইসি। জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৬, ঢাকা-১৩, চট্টগ্রাম-৯, খুলনা-২, রংপুর-৩ ও সাতক্ষীরা-২ আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। তবে বেশির ভাগ আসনে ব্যবহূত ইভিএমে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে। ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত ফল প্রকাশে ট্যাব ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়।
পঞ্চম উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে এবার পাঁচধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে চারধাপে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বিধিমালা জটিলতায় প্রথম দুই ধাপে ইভিএম ব্যবহার করতে পারেনি ইসি। তবে গত ২৪ মার্চ ও ৩১ মার্চ তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে জেলা সদরের ১০টি উপজেলা ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। এরই অংশ হিসাবে গত ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপের উপজেলা ভোটে রংপুর সদর, গোপালগঞ্জ সদর, মানিকগঞ্জ সদর ও মেহেরপুর সদর উপজেলার ভোটে ট্যাব ব্যবহার করা হয়। সেখানে ইভিএমে ভোট নেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ফল প্রকাশ করার কথা ভোট শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই। কিন্তু এই ট্যাবের মাধ্যমে ফলাফল পাঠাতে গিয়ে সব গোলমাল হয়ে যায়। যেসব উপজেলার ফল দ্রুত প্রকাশের কথা ছিল সেগুলোর ফল নির্বাচন কমিশনে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও সংগ্রহ করতে পারেনি। ইসিতে স্থাপন করা অস্থায়ী কন্ট্রোল রুমে বারবার গিয়ে দায়িত্বরতরা কোনো ফল জানাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ট্যাবের মাধ্যমে পাঠানো তথ্য বাতিল করে পুরোনো পদ্ধতিতে ফল সংগ্রহ করা হয়। এই ঘটনার পর ইসি ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে ট্যাবের ব্যবহার বাতিল করে। ২৮ মার্চ ইসি সচিবালয়ের এক চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনকে জানানো হয়। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই ধাপে ময়মনসিংহ সদর, পটুয়াখালী সদর, বাগেরহাট সদর, কক্সবাজার সদর, ফেনী সদর ও মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় ইভিএমের সঙ্গে ট্যাব ব্যবহার করার কথা ছিল।
এ বিষয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, গত ২৪ মার্চ সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ইন্টারনেটের গতি কম ছিল। সে কারণে ফল প্রকাশে একটু দেরি হয়েছে। আশা করি আগামীতে সমস্যা থাকবে না।

