সোয়া তিন লাখ রোহিঙ্গা এখনো আবাসন সংকটে

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২৩:৪৭

আশ্রয়ের সংস্থান না হওয়ায় কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া এলাকার বাড়িঘরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয়দের আন্তরিকতার কারণে তারা ওইসব বাড়িঘরে সাময়িক আশ্রয় পেয়েছে। সেখানে তারা আপদকালীন সময়ে কিছুটা ভালো থাকার চেষ্টা করছে। এদিকে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে অন্তত ১৫ হাজারের বেশি শরণার্থী কক্সবাজার শহরে বাড়িভাড়া নিয়েও আশ্রয় নিয়েছে। তবে শরণার্থী শিবিরে উপযুক্ত জায়গা পেলে তারা সেখানে ফিরে যাবে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে, স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানা গেছে।

উখিয়ার পালংখালী এলাকায় একটি বাড়িতে কথা হয় শরণার্থী আবদুল কুদ্দুসের সাথে। তিনি জানান, আশ্রয় শিবিরে থাকার জায়গা না পেয়ে ওই বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি তার অবস্থান প্রকাশ না করতে অনুরোধ করে বলেন, ‘ক্যাম্পে জায়গা পেলেই আমরা সেখানে চলে যাবো।’

একই এলাকার আরেকটি বাড়িতে কথা হয় রহিমা আক্তারের সাথে। যিনি স্বামী হারিয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে এসেছেন। তবে আশ্রয় শিবিরে থাকার জায়গা না পেয়ে ওই বাড়ির উঠানে পলিথিন দিয়ে বানানো একটি অস্থায়ী ঘরে তিনি বাস করছেন। বলছিলেন, ‘আসার পর একটি পাহাড়ে গিয়ে ওই পলিথিন দিয়ে               ঘর বানালে প্রশাসন তুলে দেয়। পরে এখানে এসে আপাতত থাকছি।’

গত শনিবার কক্সবাজার শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে কথা হয় মংডুর স্কুল ছাত্র আবদুল হামিদের সাথে। তিনি বলেন, ‘রাস্তাঘাটে থাকা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই এখানে বাড়ি ভাড়া নিয়েছি। তবে আশ্রয় শিবিরে উপযুক্ত স্থান পেলে আমরা চলে যাবো।’

আবদুল হামিদের মতো অন্তত ১৫ হাজার রোহিঙ্গা কক্সবাজার শহরে অবস্থান করছে বলে বিভিন্ন স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। গত সপ্তাহে কক্সবাজারে প্রবেশের সময় এরকম ৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে আটক করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে আইওএম-এর সমন্বয়ে শরণার্থীদের আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিত্সা নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ইন্টার সেক্টর ক্রাইসিস গ্রুপ (আইএসসিজি) গতকাল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, পালিয়ে আসা শরণার্থীদের মধ্যে এখনো পর্যন্ত ৮৮ হাজার রোহিঙ্গা টেকনাফ উখিয়া এলাকার স্থানীয়দের বাড়িঘরে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া আরো প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার শরণার্থী এখনো উপযুক্ত আশ্রয়ের সংস্থান করতে পারেনি। এখনো পর্যন্ত পুরোপুরি আশ্রয়হীন কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়ে থাকা এই তিন লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গার জরুরি আশ্রয়ের প্রয়োজন বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে।

আইওএম-এর নিডস এন্ড পপুলেশন মনিটরিং প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর লুমানি মাইকেল ইত্তেফাককে জানান, আইওএম ও অন্যান্য সংস্থাগুলো খাবার ও অন্যান্য কিছু সামগ্রী দিতে পেরেছে। যদিও বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের সংকট এখনো রয়ে গেছে।

আইওএম-এর সমন্বয় করা সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- কমপক্ষে দশটি স্থানে অবস্থান নিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের সরকার নির্ধারিত বালুখালিতে স্থানান্তর শুরু হলেও সেখানে প্রবেশের রাস্তা না থাকায় রোহিঙ্গার জন্য আশ্রয় নির্মাণে দেরি হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুইদিন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের হার কমে গেলেও আশ্রয়ের সন্ধানে প্রতিনিয়ত ছোটাছুটি করছে রোহিঙ্গারা। এদিকে সরকারের রোহিঙ্গা সেলের প্রধান কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী মাঠে নামার পর পরিস্থিতি সার্বিকভাবে উন্নতি হচ্ছে। পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে টেকনাফের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, গত শুক্রবার থেকে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসার হার একেবারে কমে গেলেও গত রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত নতুন করে কিছু রোহিঙ্গাকে পালিয়ে আসতে দেখা গেছে। স্থানীয় একজন বাসিন্দা মেহেদি হাসান ইত্তেফাককে জানান, এই সময়ের মধ্যে ২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। যদিও নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে তথ্যটি যাচাই সম্ভব হয়নি।

ইত্তেফাক/নূহু