উত্তর ইরাকে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট কুর্দিস্তানের পক্ষে জনরায়ের আশা

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০২:০৯

বাগদাদের চাপ, তুরস্ক ও ইরানের হুমকি এবং আন্তর্জাতিক সতর্কতা উপেক্ষা করেই উত্তর ইরাকে কুর্দিস্তানের স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মোট ৫২ লাখ ভোটারের মধ্যে সোমবারের গণভোটে ৭৮ শতাংশ ভোটার তাদের রায় জানিয়েছেন বলে খবর কুর্দিশ রুদাউ টেলিভিশনের। ভোট গণনা শুরুর কথা জানিয়েছে রয়টার্স।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সহজেই জয়যুক্ত হবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। স্বাধীনতার পক্ষে গণরায় এলেই কুর্দিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করবে এমন নয়। রায় কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের (কেআরজি) নেতা মাসুদ বারজানিকে স্বাধীনতার প্রশ্নে বাগদাদ ও প্রতিবেশী অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে দেন দরবারের সুযোগ দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্যালট পেপারে কুর্দি, তুর্কি, আরবি ও অ্যাসিরীয় ভাষায় ভোটারদের একটি মাত্র প্রশ্ন করা হয়েছে; যাতে বলা হয়েছে, “কুর্দিস্তান ও এর বাইরের অন্য (কুর্দি) এলাকাগুলো নিয়ে একটি স্বাধীন দেশ হোক, তা কি চান আপনি?”

গণভোটের কারণে কুর্দিস্তানের সঙ্গে বাগদাদ, ইরান ও তুরস্কের বিবাদ শুরু হতে পারে এই আশঙ্কায় নির্বাচন বাতিল করার জন্য বারজানির ওপর প্রবল আন্তর্জাতিক চাপ ছিল। গণভোটের কারণে রবিবার থেকেই ইরান কুর্দিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়।

ইরাক সব বিদেশি পক্ষকে কুর্দিস্তানের সঙ্গে সরাসরি জ্বালানি তেল বাণিজ্য না করার অনুরোধ জানিয়েছে এবং কেআরজির হাতে থাকা সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইরান, তুরস্ক ও সিরিয়ার সঙ্গে থাকা সব সীমান্ত চৌকির নিয়ন্ত্রণ বাগদাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর শতাব্দীকাল ধরে ‘রাষ্ট্রবিহীন’ অবস্থায় পড়ে থাকা কুর্দিরা এই গণভোটকে সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

 “খারাপ পরিস্থিতি দেখেছি আমরা, অবিচার দেখেছি, হত্যাকাণ্ড ও অবরোধও দেখেছি। আল্লাহর ইচ্ছায়, আমরা বিশ্বের অন্যান্য লোকজনের মতো হতে চাই। আমরা স্বাধীনতা চাই এবং একটি রাষ্ট্র চাই,” সোমবার ইরবিলের এক ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে এমনটাই বলেন তালাত নামের এক কুর্দি।

রয়টার্স বলছে, উত্তর ইরাকের রাজধানী ইরবিলের ভোটের লাইনগুলোতে দেখা গেছে উত্সবমুখর পরিবেশ। রঙিন পোশাক পরিহিত নারীরা ভোট কেন্দ্র থেকে বের হয়ে হাসিমুখে তাদের আংগুলের কালি দেখাচ্ছিলেন।

কিরকুকে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দাদের নেচে গেয়ে ভোট কেন্দ্রের দিকে যেতে দেখা গেছে। তেল সমৃদ্ধ শহরটির আরব ও তুর্কি অধিবাসীরা অনেকেই গণভোটের বিরোধিতা করেছেন।

“ইরাক কুর্দিদের বিপক্ষে; তুর্কিরা, ইরানিরা, আরবরা এমনকি ইউরোপীয়রাও এর বিরুদ্ধে।

ইত্তেফাক/নূহু