শিক্ষার্থী নেই তবুও ১৮ বছর ধরে ৪ শিক্ষকের বেতন উত্তোলন

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৯:৫৪
 
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের সিদ্দিকীয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার এবতেদায়ী শাখায় একজন শিক্ষার্থীও নেই। সেখানে চারজন শিক্ষক দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে অলস সময় কাটিয়ে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।
 
উপজেলা সদর থেকে উত্তর-পশ্চিমে ১৩ কিলোমিটার দূরে মাদারগঞ্জ হাটের পাশে ওই মাদ্রাসাটি ১৯৯৩ সালে স্থাপিত হয়। ওই সময়ে ওই মাদ্রাসার দাখিল শাখায় ১২জন শিক্ষক, চারজন কর্মচারী এবং এবতেদায়ী শাখায় চারজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। মাদ্রাসাটি ১৯৯৯সালে এমপিও হয়।
 
বুধবার  বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি (এবতেদায়ী ) পর্যন্ত কোন শিক্ষার্থী নেই।
 
দাখিল শাখার একজন শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এবতেদায়ী শাখায় কোন শিক্ষার্থী নেই। ভুয়া শিক্ষার্থীর নাম মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিয়ে সেখান থেকে নতুন বই  উত্তোলন করে মাদ্রাসায় রাখেন সুপার। বছর শেষে সেই বই বিক্রি করে দেন তিনি।’
 
এবতেদায়ী শাখার প্রধান তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘প্রাইমারি স্কুলে সরকারিভাবে বিস্কুট ও উপবৃত্তি  দেওয়া হয়। কিন্তু এবতেদায়ী শাখায় কিছুই দেওয়া হয় না। এ কারণে অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের এবতেদায়ীতে ভর্তি না করে প্রাইমারিতে করান। এনিয়ে আমরা (এবতেদায়ী শিক্ষকেরা) আন্দোলনে নেমেছি।’
 
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এবতেদায়ী শাখায় শিক্ষার্থী থাকতে হবে এমন কোন বিধান নেই। দাখিল শাখায় তো শিক্ষার্থী রয়েছে। আমরা মাঝে মধ্যে সেখানে গিয়ে ক্লাস নেই।’
 
কাগজে-কলমে ওই মাদ্রাসার এবতেদায়ী শাখায় ৯৮জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ওই শিক্ষার্থীদের নামে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষের দিকে শিক্ষা অফিস থেকে নতুন বইও উত্তোলন করা হয়েছে। মাদ্রাসার সুপারের কক্ষে কিছু বই পড়ে থাকতে দেখা যায়।
 
বাকী বই কোথায়- জানতে চাইলে সুপার মোকছেদুল হক সরকার বলেন, ‘ভাই, ছাদে রয়েছে।’এবতেদায়ী শাখায় শিক্ষার্থী নেই কেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এবার সুযোগ দেন, সামনে বছর থেকে অবশ্যই শিক্ষার্থী ভর্তি করে পাঠদান দেওয়া হবে।’
 
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলে এলাহী বলেন, ‘আমি সম্প্রতি সময়ে এ উপজেলায় যোগদান করেছি। অবশ্যই এবতেদায়ী শাখায় শিক্ষার্থী থাকতে হবে। যদি ওই মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী না থাকে তাহলে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি কিভাবে শিক্ষকদের বেতন-ভাতায় স্বাক্ষর করেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’
 
ইত্তেফাক/ আরকেজি