‘‘সাবধান ইহা একটি অবৈধ গেট, যানবাহন পারাপার নিষেধ” সাইনবোর্ড টাঙিয়েই দায় সেরেছেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ফলে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অরক্ষিত ১৫টি রেল ক্রসিং এখন মরন ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ক্রসিংগুলোতে রেল গেট না থাকায় যে কোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি ওই সব রেলক্রসিংগুলোতে কোনো ধরনের সিগনালও নেই। অথচ এসব রেলক্রসিং এর উপর দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন ও স্থানীয় লোকজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। ফলে প্রতি বছরই ওই সব রেল ক্রসিংয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে লোকজন মারা যাচ্ছেন। কখনো কখনো ট্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে ধাক্কা লেগে ঘটছে দুর্ঘটনা।
স্থানীয় লোকজন জানায়, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড লাগিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করেছেন। সাইনবোর্ডে লেখা আছে- ‘সাবধান! ইহা একটি অবৈধ গেট, যানবাহন চলাচল নিষেধ’। ওই সকল রেলক্রসিংগুলোতে রেল গেট নির্মাণের জন্য বেশ কয়েকবার দাবি করলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
খাসহাওলা এলাকার বাসিন্দা সালাম মিয়া জানান, আকবর নগর, মিরারচর, আদর্শপাড়া ও খাসহাওলা এলাকার রেলক্রসিংয়ের গেট ব্যারিয়ার না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এ পর্যন্ত ৪টি স্থানে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক লোক মারা গেছে। এলাকার লোকজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে। গেট ব্যারিয়ার নির্মাণ করার জন্য ভৈরব রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও আজও পর্যন্ত তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
জগন্নাথপুর গ্রামের হেলিম মিয়া জানান, বসত বাড়ির পাশ দিয়ে রেল লাইন থাকাতে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রেলক্রসিং দিয়ে যাতায়াত করছেন তিনি। অথচ রেলক্রসিংয়ে কোনো গেট ব্যারিয়ার নেই। প্রায়ই দুর্ঘটনায় লোকজন মারা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি সাইদুল ইসলাম জানান, অপরিকল্পিত রেল ক্রসিং, অসাবধান হয়ে রেলক্রসিং চলাচল, রেল লাইনের পাশে হাট বাজার, মোবাইলে কথা বলতে বলতে রেল লাইন পার হওয়া, আত্মহত্যার মাধ্যম হিসেবে লাইনকে ব্যবহার এবং চলতি ট্রেনে মানুষের উঠা-নামা করার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
জানতে চাইলে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার অমৃত লাল জানান, রেল দুর্ঘটনা কমাতে হলে অস্বীকৃত ও অপরিকল্পিত রেল ক্রসিং বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি জনসাধারণকেও সতর্ক হতে হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
