বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার যে আশ্বাস দিয়েছে তাতে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। গতকাল সোমবার মানবাধিকার কাউন্সিলের ৩৬তম অধিবেশনে দেওয়া বিবৃতিতে ভারত বলেছে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশকে যে নিঃশর্ত আশ্বাস দিয়েছে আমরা অবশ্যই তাতে স্বাগত জানাই। একইসঙ্গে আমরা রাখাইন রাজ্যের জন্য গঠিত অ্যাডভাইজরি কমিশনের (কফি আনান কমিশন) সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকারের অঙ্গীকারকেও স্বাগত জানাই। গতকাল ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে সহযোগিতা করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত। একইসঙ্গে রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি ও স্থিতিবস্থা ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে ভারত। বাস্তুচ্যুতদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে। ভারত বলেছে, মিয়ানমারের এই প্রচেষ্টায় সহায়তা করা সকলের দায়িত্ব।
IMG0
ভারত বলেছে, রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের মানবিক সহায়তা ও আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে ভূমিকা রেখেছে তা প্রশংসনীয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এই কাজের স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়ার দাবি রাখে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে ভারত দ্রুততার সঙ্গে বাংলাদেশকে সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে। ইতোমধ্যে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য কয়েক দফা ত্রাণ পাঠিয়েছে ভারত সরকার।
IMG1
ভারত বলেছে, কফি আনান কমিশনের করা সুপারিশ অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে রাখাইন সংকটের স্থায়ী সমাধান আসতে পারে। ভারত আরো বলেছে, মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।
ইত্তেফাক/সেতু
