নমুনা অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর মানেই মূল্যায়নে নম্বর বেশী পাওয়া।
প্রিয় নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আজ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার উপর সৃজনশীল প্রশ্নের নমুনা উত্তর দেয়া হলো। আগামী পরীক্ষাগুলোতে এই নমুনা উত্তর অনুযায়ী লিখতে পারলে আশাকরি তোমরা সর্বোচ্চ নম্বর পাবে।
উদ্দীপক-১:
‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই
আজ আর নেই
কোথায় হারিয়ে গেল সোনালি বিকেলগুলো সেই
আজ আর নেই’
উদ্দীপক-২:
‘ঋতু বৈচিত্র্যের সুন্দর জন্মভূমি আমার
বিচিত্র রূপতার; শস্য শ্যামল ক্ষেত খামার
প্রিয় জন্মভূমি মা তোমায় ভালবাসি বেশুমার।”
ক. চতুর্দশপদী কবিতার প্রথম আট চরণের স্তবককে কী বলে?
খ.‘জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে’-বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপক-১ এর বক্তব্য ‘কপোতাক্ষ নদ’কবিতার কোন বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলেছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ.“উদ্দীপক-২ ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতা একই চেতনার সৃষ্টি”-উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
ক. চর্তুদশপদী কবিতার প্রথম আট চরণের স্তবককে অষ্টক বলে। বা শুধুই ‘অষ্টক বলে’- এ কথাটি লিখলেও হবে।
খ. ‘জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে’ বলতে কবি ভুলের ছলনা কে বুঝিয়েছেন।
কবি স্বপ্নের ঘোরে বিভোর হয়ে অবচেতন মনে
কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। কবির এই মানসিক অবস্থাকেই মূলত তিনি ‘জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে’- বলে উল্লেখ করেছেন।
গ. উদ্দীপক-১ এর বক্তব্য ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার স্মৃতিকাতরতার বিষয়টিকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
শৈশবের নানা স্মৃতি কবিকে ভারাক্রান্ত করে তোলে। ফেলে আসা নদের সঙ্গে বিজড়িত স্মৃতি নানাভাবে তাকে নাড়া দেয়। কত দেশ কত নদ-নদী তিনি দেখেছেন কিন্তু জন্মভূমির এই নদ যেন মায়ের স্নেহডোরে তাঁকে বেঁধেছে, কিছুতেই তিনি তাকে ভুলতে পারেন না।
তেমনি উদ্দীপক-১ এর গানের মধ্য দিয়ে গীতিকার তার জীবনের স্মরণীয় দিনগুলোকে স্মরণ করেছেন। স্মৃতিময় দিনগুলো গীতিকারর মনে বেদনার সৃষ্টি করে। অতীত জীবনে বন্ধুদের সাথে কফি হাউজে আড্ডার দিনগুলো তাকে বেদনাতুর করে তোলে। তিনি হাজার চেষ্টা করেও সেই সোনালী দিনগুলো ফিরে পান না। গীতিকার অতীতের সেইদিনগুলোর কথা মনে করে স্মৃতিকাতর হন।
ঘ. “উদ্দীপক-২ ও কপোতাক্ষ নদ কবিতা একই চেতনার সৃষ্টি”-উক্তিটি যথার্থ।
মা, মাটি ও মাতৃভাষা সবার নিকট প্রিয়। কপোতাক্ষ নদ কবিতায় কবি নদকে উপলক্ষ্য করে স্বদেশের জন্য হূদয়ের কাতরতাকে বঙ্গবাসীর নিকট ব্যক্ত করেন। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে দেশের স্মৃতিবিজড়িত নদকে কল্পনায় অনুভব করেন। নদকে সখা বলে সম্বোধন করেন। নদকে জননী মনে করে নদের জলে মাতৃস্নেহের তৃষ্ণা মেটান। বহু দেশে বহু নদ দেখলে ও কবি নিজ জন্ম ভূমির বুকে বয়ে যাওয়া নদের মতো কাউকে সুন্দর মনে হয় না। নদের স্মৃতি কাতরতার আবরণে স্বদেশ প্রেমের অত্যুজ্জ্বল বহি: প্রকাশকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
উদ্দীপক-২ এ কবি বাংলার ঋতু বৈচিত্র্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্য দিয়ে মূলত স্বদেশ প্রেমের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিমোহিত আমাদের এই জন্মভূমি। সবুজ শস্য-শ্যামলে ভরা ক্ষেত, মাঠ-ঘাট, সবকিছ ুতিনি গভীরভাবে অনুভব করেন। জন্মভূমি বাংলাকে জননীরূপে অভিহিত করেছেন। প্রকৃতির মধ্য দিয়ে কবি দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসাকে প্রকাশ করেছেন।
উদ্দীপক ও কপোতাক্ষ নদ কবিতায় মূলত প্রকৃতির নানা বিষয়ের সৌন্দযের্র স্মৃতিকাতরতার মধ্য দিয়ে স্বদেশ প্রেমের চেতনার বিষয়টি প্রস্ফুটিত করেছেন। তাই বলা যায়, ‘উদ্দীপক-২ ও কপোতাক্ষ নদ কবিতা একই চেতনার সৃষ্টি’-উক্তিটি যথার্থ।
