দশমিক গণনা পদ্ধতিতে দশটি অঙ্ক ব্যবহার করা হয়, কিন্তু বাইনারি গণনা পদ্ধতিতে কেবল দুটি অঙ্ক ব্যবহার করা হয়। যথা শূন্য (০) এবং এক (১) বাইনারি গণনা পদ্ধতিতে ১, ১০, ১১, ১০০ এবং ১০১ দিয়ে যথাক্রমে এক, দুই, তিন, চার ও পাঁচ বুঝায়। বাইনারি সংখ্যা এখন কম্পিউটারের ভাষা। কিন্তু এ গণনা পদ্ধতির উদ্ভাবক চীনারা একে বিকশিত করেছে ধর্মীয় বিশ্বাস ও দর্শনের স্বার্থে। তারা বিশ্বাস করতো জগতের সব কিছুই সংখ্যাগতভাবে বিন্যস্ত। চীনার দার্শনিক শাও ইয়াং এ পদ্ধতির জনক। তার বই ‘জগত নিয়ন্ত্রণকারী পরম নীতির শাস্ত্র’ গ্রন্থে তিনি ইন চিং-এর ৬৪টি হেক্সাগ্রাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এগুলো গঠিত হয়েছে আটটি ট্রাইগ্রামের সবগুলো কম্বিনেশন দিয়ে। ট্রাইগ্রামগুলো গঠিত হয় ইন ও ইয়াংকে প্রতিনিধিত্বকারী চিহ্ন দিয়ে। চীনা দার্শনিকরা মনে করতো দুটি সমান ও পরস্পর বিপরীত শক্তি যুগ্মভাবে বিশ্বজগত নিয়ন্ত্রণ করছে। একটি অন্ধকার, ধরা এবং নারীত্ব নিয়ে গঠিত যাকে বলা হয় ‘ইন’ (Yin) এবং অপরটি দিপ্তী, স্বর্গ এবং পুরুষত্ব নিয়ে গঠিত যাকে বলা হয় ‘ইয়াং’। ইন ও ইয়াংকে আটটি ট্রাইগ্রামে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি ট্রাইগ্রাম তিনটি সমান্তরাল লাইন নিয়ে গঠিত, যাদেরকে আলাদা করা যায় অবিচ্ছিন্ন ও ভগ্ন লাইন দিয়ে। অবিচ্ছিন্ন লাইন দিয়ে ইয়াং এবং ভগ্ন লাইন দিয়ে ইন বুঝায়।
