সীমান্তে রোহিঙ্গার স্রোত থামছে না

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৭, ২০:২৮
 
উখিয়া-টেকনাফের আনজুমান পাড়া, হোয়াইক্যং উলুবনিয়া ও লম্বাবিল সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে হঠাৎ করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ বুধবার ভোর রাতে উল্লেখিত পয়েন্ট দিয়ে হঠাৎ করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনায় পরস্পর বিরোধীসহ বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। 
 
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, মিয়ানমারের বাহিনী প্রথমে চলে আসার জন্য মাইকিং করলেও এখন পালিয়ে আসতে বাধা প্রদান করছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন- কারো কারো কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পালিয়ে আসতে সহযোগীতা করছে। তবে এসব রোহিঙ্গারা দিনের বেলা থেকে রাতের বেলায় সাগর পথে পাড়ি জমাচ্ছে। 
 
রোহিঙ্গাদের দাবি, দিনের আলোতে মিয়ানমার জান্তারা নৌকা লক্ষ্য করে গুলি করে বিধায় রাতের বেলায় পারাপারকে তারা নিরাপদ মনে করছে। 
 
আজ বুধবার ভোর রাতে মিয়ানমারের বুচিধং এলাকায় মরিচ্ছং গ্রামে জাহেদ হোসেন (২২) তার মা মাহবুবা বেগমকে (৬৫) নিয়ে নাফনদী পার হয়ে আনজুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে বালুখালী ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। 
 
প্রত্যক্ষদর্শী এ যুবক জানান, মংডুর ৬০ মাইল উত্তরে মেরুল্লা শহরের অবস্থান। এ শহরের আওতায় করইতলী, মরিচ্ছং, নয়াপাড়া, খুন্ডিপাড়া, দইনপাড়া, মাইজপাড়া, পোকখালী, পশ্চিমপাড়া, ঘরাখালী, রুমপাড়া, বাহারছড়া, সিদ্ধাপাড়া ও ফকিরাপাড়াসহ ১২টি গ্রাম আছে। একেকটি গ্রামে ৪/৫শত পরিবার ছিল। এসব পরিবারগুলো গত ৭ দিন ধরে চলে আসতে শুরু করেছে। 
 
মরিচ্ছং পাড়ার হুক্কাটা (চেয়ারম্যান) শামশুল আলম জানান, তার দোতলা একটি কাঠের ঘর, ২শতাধিক গরু মহিষের খামার ছিল। সেনাবাহিনীর সাথে তার সর্ম্পক থাকার কারণে এতদিন তাকে আসতে হয়নি। গত মঙ্গলবার সকালে সেনাবাহিনী ওই গ্রামে প্রবেশ করে শতাধিক বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। তার বাড়িতে এসে তাকে (হুক্কাটা) বাড়ি থেকে বের হতে বলে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। 
 
এসময় গরু ছাগলগুলো মিয়ানমার জান্তারা লুটপাট করে নিয়ে যায়। আগুন দেওয়ার আগে টাকা পয়সা, স্বর্ণালংকার নিয়ে নেয়ার কথা বললেও পরে যাবতীয় সহায় সম্পত্তি জান্তারা কেড়ে নেয়। তিনি জানান, বর্তমানে ওই ১২টি গ্রাম এখন জনশূণ্য হয়ে পড়েছে। তারা মঙ্গলবার বেলা ১১টায় গ্রাম থেকে রওনা হয়ে হাইসুরা দরিয়া হয়ে পরদিন পায়ে হেটে নাইক্ষ্যংদিয়া চরে জড়ো হন। বুধবার তারা ফিশিং ট্রলারে করে শাহপরীর দ্বীপে উঠে। 
 
তিনি আরো জানান, তারা দীর্ঘ পথ পায়ে হেটে আসার সময় দেড়শতাধিক নারী পুরুষের লাশ জঙ্গলে পড়ে থাকতে দেখেছেন। 
 
সেনা বাহিনী লম্বাবিল ও উলুবনিয়া রাস্তার মাথা পয়েন্টে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে পৌঁঁছানোসহ বিভিন্ন সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। চলমান সহিংসতায় রাখাইন থেকে নতুন করে পালিয়ে আসছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে তারা বাংলাদেশে ঢুকছে। গত মঙ্গলবার রাতেই টেকনাফের হোয়াইক্যং উলুবনিয়া সীমান্ত দিয়ে দশ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ এক সপ্তাহ বন জঙ্গল পার করে রাখাইনের কোয়াংচিবং সীমান্ত দিয়ে তারা বাংলাদেশে আসে। এছাড়া টেকনাফের নাইট্যংপাড়া ও শাহপরীরদ্বীপ পয়েন্ট দিয়েও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বেড়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারাদের অধিকাংশ রাখাইনের বুচিডং থানা এলাকার। 
 
টেকনাফ-২ বিজিবির উপ-অধিনায়ক শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার জানিয়েছেন, উলুবনিয়া সীমান্ত থেকে প্রচুর রোহিঙ্গা ঢুকেছে। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। তাদেরকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে। 
 
ইত্তেফাক/কেকে