নওগাঁয় স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামী লোকমান হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিজ্ঞ বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম এ রায় দেন। লোকমান মান্দা উপজেলার এলেঙ্গা গ্রামের মৃত মছির উদ্দিনের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৫ বছর আগে উপজেলার ভরট্ট কাঠেরডাঙ্গা গ্রামের নাছের কবিরাজের মেয়ে শেফালী বেগমের সঙ্গে এলেঙ্গা গ্রামের মৃত মছির উদ্দিনের ছেলে লোকমান হোসেন মিস্ত্রির বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছিল। বিয়ের ১০ বছর পর লোকমান ৭০ হাজার টাকা যৌতুক দাবী করে বসেন। যৌতুকের দাবীতে প্রায়ই তাকে নির্যাতন চালানো হতো।
এক পর্যায়ে মারপিট করে শেফালীকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বাধ্য হয়ে তিনি কিছু টাকা নিয়ে পুনরায় স্বামী বাড়িতে আসেন। কিন্তু যৌতুকলোভী লোকমান তখনও ক্ষান্ত হননি।
পরে মোটরসাইকেল কিনতে আবারও ৭০ হাজার টাকা বাবার বাড়ি থেকে এনে দিতে শেফালীর উপর চাপ অব্যাহত রাখেন। কিন্তু চাহিদা মোতাবেক টাকা এনে দিতে শেফালী অপারগতা প্রকাশ করলে নির্যাতনের মাত্রা দ্বিগুণ হয়।
এরই এক পর্যায়ে ২০১৬ সালের ৪ জানুয়ারি রাতে তার উপর অমানষিক নির্যাতন চালানো হয়। এতে তিনি মারা যান। ওইদিন রাতে লোকমানের প্রতিবেশী সাইদুর রহমান মোবাইল ফোনে শেফালীর মৃত্যুর সংবাদ তার ছোট ভাই জালাল উদ্দিনকে জানান। জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে মান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
ইত্তেফাক/ আরকেজি
