অব্যাহত লোকসানে ঠাকুরগাঁও চিনিকল!

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ২২:১৬

আধুনিকীকরণের দাবি

তানভীর হাসান তানু, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

উত্তরের সীমান্ত জেলাগুলোর মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে ভারী শিল্প-কারখানা একমাত্র চিনিকল। বার্ষিক ১৫ হাজার মেট্রিক টন চিনি উত্পাদন ক্ষমতাবিশিষ্ট এ চিনিকলটি পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রা শুরু করে ১৯৫৮-৫৯ সালে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালে বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদন শুরু করে চিনিকলটি। কিন্তু দীর্ঘদিনে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা লোকসানের কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে মিলের কার্যক্রম।

চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁও চিনিকলে আখ সরবরাহ করে টাকা না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। প্রায় তিন মাস আগে চিনিকলে আখ সরবরাহ করেছেন তারা। অথচ তিন মাসেও সেই আখের মূল্য পাননি চাষিরা। এতে চিনিকলে চাষিদের বকেয়া প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকা। সম্প্রতি ক্ষুব্ধ আখচাষিরা দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের দাবিসহ নানা অনিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। আখচাষি সিরাজুল ও লিয়াকত অভিযোগ করেন, আখ সরবরাহ করে সময় মতো টাকা পাচ্ছেন না তারা। তার উপর চাষের উপকরণ ও উন্নতজাতের বীজ সরবরাহের অভাবসহ নানা কারণে আখের আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। আখের জমিতে চাষ হচ্ছে গম-ভুট্টা, সবজিসহ লাভজনক ফসল ও ফলমূল।

আখচাষি সমিতির সভাপতি ইউনুস আলী জানান, ঠাকুরগাঁও সুগারমিলের সকল আখচাষির পক্ষ থেকে মিলটিকে দ্রুত আধুনিকীকরণের জন্যে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও ফল মেলেনি। মিল শ্রমিক ইমদাদুল হক বলেন, মিলের যন্ত্রাংশ পুরনো হওয়ায় গত প্রায় পনের থেকে বিশ বছর ধরে মিলটি তার কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। তাই মাড়াই মৌসুমে মাঝে-মাঝেই মিল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিক কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস জানান, মিলের বয়স অনুযায়ী এর যন্ত্রপাতি পরিবর্তন করা হয়নি। বছরের দীর্ঘসময় মিলটি বন্ধ থাকায় কর্তৃপক্ষের ক্ষতির পাশাপাশি শ্রমিক ও চাষিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মিলটিকে আধুনিক করার জন্য সরকারিভাবে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হলেও নানা জটিলতার কারণে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। মিলটির কাজ দ্রুত করা হলে সংশ্লিষ্ট সকলেই লাভবান হবেন।

ঠাকুরগাঁও চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস শাহী জানান, চিনিকলের আখ ক্রয় বাবদ কয়েক কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। মিলে কর্মচারী ও চাষিদের এই বকেয়া বিল পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। মিলটিকে আধুনিক করা হলেই দীর্ঘদিনের লোকসান পুষিয়ে উঠতে পারবে বলে ধারণা করছেন তিনি।