২৩ বছরেও একাডেমিক ভবন পায়নি সেরা বিদ্যাপীঠ

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ২২:১৮

কাহালু আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

ফলাফল ও পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রমে গত ১০ বছরে বগুড়ার কাহালু উপজেলায় সেরা কলেজটি ২৩ বছরে কোনো একাডেমিক ভবন পায়নি। উপজেলার একমাত্র কাহালু আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজটি ১৯৯৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যক্রম শুরু করে ২১ মে ১৯৯৬ সালে রাজশাহী বোর্ড কর্তৃক মঞ্জুরি লাভ করে।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও তাইরুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মরহুম মাস্টার আব্দুল লতিফ প্রদত্ত ৩.০২ একর (প্রায় ১০ বিঘা) জমিতে প্রতিষ্ঠিত কলেজে বর্তমানে প্রায় ৭০০ ছাত্রী ঝুঁকিপূর্ণ ও আধাপাকা টিনশেড ভবনে মানসম্মত লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব ও অন্যান্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ছাড়া পাঠ গ্রহণ করছে। যদিও শিক্ষক ও কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কলেজটির ছাত্রীরা বিভিন্ন পরীক্ষায় ফলাফল, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা, রচনা প্রতিযোগিতাসহ পাঠ্যবহির্ভূত বিভিন্ন কার্যক্রমে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে উপজেলা, জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন পুরস্কারও পেয়েছে।

কলেজটি ১৯৯৫ সালে অল্পসংখ্যক ছাত্রী ও শিক্ষক নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রায় ছয় বছর পর এমপিওভুক্তি হয়ে আজ কলেজটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আধাপাকা টিনশেড ভবন ও কলেজ প্রশাসন ও গভর্নিং বডির আন্তরিকতায় দুইটি নিজস্ব বাস চালিয়ে শিক্ষা দীক্ষায় পিছিয়ে পড়া মেয়েদের এগিয়ে নিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছেন। শুধু তাই নয়, গত ১০ বছরে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক শ্রেণিতে (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন) পরীক্ষায় গোল্ডেন এ+ এবং প্রথম শ্রেণিপ্রাপ্ত হয়েছে অনেক ছাত্রী। অত্র কলেজ থেকে পাস করে অনেক ছাত্রী মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিসহ বিভিন্ন পেশায় প্রবেশ করেছে। বর্তমানে কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ১৯টি বিষয়, ডিগ্রি (স্নাতক) শ্রেণিতে ১০টি বিষয়ে নিয়মিত পাঠদান করছেন শিক্ষকরা।

কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. মিল্লাত হোসেন জানান, বর্তমানে কলেজের জন্য যেখানে প্রায় ৩০টি ক্লাসরুম প্রয়োজন সেখানে শ্রেণিকক্ষ আছে ১৬/১৭টি। ফলে ছাত্রীদের ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে ক্লাসের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম রেজাউল আখলাক বলেন, কলেজের সকল শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্রী চরম কষ্টে তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। রাজশাহী বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে উপজেলায় গত ১০ বছরে সেরা ফলাফল করলেও আমরা কোনো একাডেমিক ভবন এখনো পর্যন্ত পাইনি। আমরা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে অনেক আগেই আবেদন করেছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, শিক্ষাবান্ধব বর্তমান সরকার ওয়ান-স্টোপ প্রকল্পের অধীনে একাডেমিক ভবনের জন্য প্রস্তাব ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে।