শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়নের মাধ্যমে তাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ যোগানো হয়। যখন কোন শিক্ষার্থী বৃত্তি পায় তখন ওই শিক্ষার্থীর পাশাপাশি তার সহপাঠী বন্ধুরাও নতুন করে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু অভিযোগ আছে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৩৮ বছর পেরিয়ে গেলেও বাড়েনি শিক্ষার্থীদের বৃত্তির বাজেটের টাকা।
প্রতিমাসে ওইসব শিক্ষার্থীদের জন্য বাজেট হয় মাত্র ১২০ টাকা। যেখানে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদেরকে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে সরকার প্রতিবছর ১০ হাজার দুইশত টাকা বরাদ্দ করে। সেখানে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগের বর্ষসেরা শিক্ষার্থীদেরকে প্রতি বছর মাত্র ১২শ' টাকা দেওয়া হয়। যা রীতিমত লজ্জাস্কর ব্যাপার বলে মনে করছেন সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিভাগের বৃত্তি শাখায় এক অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করা হয়। মেধাবৃত্তির মাধ্যমে তিনজন এবং সাধারণ বৃত্তির চারজন শিক্ষার্থীকে প্রদান করা হয়ে থাকে। এই বৃত্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবছর সর্বমোট ১৪৬৫ শিক্ষার্থীদের মধ্য ৪৭৪ জনকে প্রদান করা হয়ে থাকে। এই সংখ্যার মধ্যেই আবার রোভারস্কাউট ও বিএনসিসির ১২ শিক্ষার্থীদেরকে এই শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। আর বাকি ৪৬২জন শিক্ষার্থীকে একাডেমিক বৃত্তি প্রদান করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পাশ হওয়া ওই বাজেটের পর নতুন করে আর কখনো ব্যাপারটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসেনি। যদিও ২০১৩ সালে একাডেমিক শাখার কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের জন্য এমন অপ্রতুল বাজেট বৃদ্ধির জন্য দরখাস্ত করেছিল কিন্তু সেসময় আমলেই নেননি প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মত সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে যেখানে প্রতিমাসে কর্তৃপক্ষ ১২০ টাকা হারে বৃত্তি সুবিধা প্রদানের বাজেট করে। সেখানে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ টাকা প্রদান করা হয়ে থাকে।
একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দীন বলেন, 'যেখানে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর এবং ইউজিসি ফ্যাকল্টি সেরাদের জন্য প্রতি বছর দশ হাজরের উপর বৃত্তি প্রদান করা হয়। সেই তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭৪ জন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর মাত্র ছয় লাখ টাকা বাজেট নিঃসন্দেহে অপ্রতুল। আমরা এই বৃত্তির পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য বিগত প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছিলাম কিন্তু কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় বর্ষসেরা শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষাবৃত্তি নিঃসন্দেহে অপ্রতুল। আমরা ইউজিসির নিকট শিক্ষার্থীদের এই বৃত্তির বাজেট বৃদ্ধির জন্য আবেদন করব।'
ইত্তেফাক/জামান
