শেয়ারবাজারের পতন থামছে না। মাঝে মাঝে সূচকের কিছুটা ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা টিকে থাকতে পারছে না। আর টানা দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারী বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অবস্থা শোচনীয়। প্রতিনিয়ত লোকসান গুনছেন তারা। আর লোকসানে পড়ে বারবার আস্থা হারাচ্ছেন এসব বিনিয়োগকারীরা। তারা কোনোভাবেই আশাবাদী হতে পারছেন না। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন এসব বিনিয়োগকারীরা।
শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক দরপতনের কারণে গতকাল দুপুরে বিনিয়োগকারীদের একটি দল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনের রাস্তায় বিক্ষোভ করেন। আর এমন দরপতনের জন্য তারা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ডিএসই কর্মকর্তাদের দায়ী করছেন ।
বিক্ষোভকারী বিনিয়োগকারীরা বলছেন, কারসাজি চক্রের খপ্পরে পড়ে শেয়ারবাজারে এমন টানা দরপতন হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি শেষ হয়ে যাচ্ছে। নীরবে পুঁজি হারাচ্ছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। বড় বিনিয়োগকারীদের অবস্থাও খারাপ। বাজারের এমন অবস্থার পরও বিএসইসি কিংবা ডিএসই কেউই কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এক্ষেত্রে সবাই যার যার সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও মনে করেন তারা।
গতকাল সোমবার বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মূল্য সূচকের বড় পতনের পাশাপাশি ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সব খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ফলে ডিএসইতে পতনের তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৭৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম বেড়েছে মাত্র ৪৫টির। ২৮টির দাম অপরিবর্তিত থাকে। গতকাল একের পর এক প্রতিষ্ঠানের দরপতনের কারণে লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৬১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৭২ পয়েন্টে নেমে যায়। আর অব্যাহত দরপতনের কারণে ডিএসইর বাছাই করা ৩০টি কোম্পানিও দরপতন থেকে রক্ষা পায়নি। ফলে এই ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকটি আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৯২৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে এক হাজার ২৪০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। যদিও গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বাড়ে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয় ৪১৮ কোটি টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩৩০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএসসিএক্স ১১২ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৯৭৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারটিতে লেনদেন হয় ১৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২৪১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বাড়ে ৪২টির। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮০টির। দাম অপরিবর্তিত ছিল ১৯টির।
