ফারমার্স ব্যাংকের ১৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
প্রায় ১৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী ও তার ছেলে এবং স্ত্রীসহ মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন যাচাই বাছাই করে কমিশন এ চার্জশিট অনুমোদন করেন। শিগগিরই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদক উপপরিচালক মোঃ সামছুল আলম সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করবেন বলে জানা গেছে।
এ চার্জশিটে যাদের নাম রয়েছে তার মধ্যে মো. মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী ছাড়া অন্যরা হলেন বাবুল চিশতী’র ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, বাবুল চিশতীর স্ত্রী রুজী চিশতী, ব্যাংকটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান খান। দুদক সূত্র জানায়, গত বছর ১০ এপ্রিল দুদকের উপপরিচালক মো. সামছুল আলম বাদী হয়ে গুলশান থানায় মো. মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীতে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে। মামলার পরপরই দুদক টিম মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী ও তার ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ব্যাংকটির ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান খান ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জিয়া উদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করে। জানা যায়, ২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত সময়ে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ব্যাংকের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মাহবুবুল হক চিশতী গুলশান শাখায় সঞ্চয়ী হিসাব খুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ নগদে ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা ও উত্তোলন করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে তার স্ত্রী, ছেলে, মেয়েদের ও তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন শাখার মোট ২৫টি হিসাবে বেশিরভাগ অর্থ নগদ ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে মোট ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।
