প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে গড়ে ওঠা গণ আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে আফ্রিকার দেশ সুদান। সরকারি বাহিনী ও বিক্ষোভকারীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়ায় যেকোন সময়ে রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সুদানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গতকাল সোমবার রাজধানী খার্তুমে সেনা সদর দপ্তরের বাইরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়্যার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সেখানে অবস্থান নিয়েছে হাজার হাজার লোক। সুরক্ষিত ওই কম্পাউন্ডের ভেতরে প্রেসিডেন্টের বাসভবন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের পদত্যাগের দাবি উঠলেও গত শনিবার থেকে আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে। প্রতিদিন রাজধানীতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হচ্ছে বিক্ষোভকারীদের। এ পর্যন্ত গুলিতে ৫১ বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তবে সরকার এই সংখ্যা ৩২ বলে দাবি করেছে।
আন্দোলনকারীরা সেনা সদরের বাইরে অবস্থান নিলে গতকাল ভোরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কয়েকটি গাড়িতে করে ঘটনাস্থলে আসে। তারা অবস্থানরত লোকজনকে সরে যেতে নির্দেশ দেয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করতেই নিরাপত্তা বাহিনী মুহুর্মুহু টিয়্যার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ শুরু করে। শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। এতে বহু লোক আহত হয়েছে।
সেনা সদর দপ্তরের পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকেও বাসিন্দারা টিয়ার গ্যাসের ঝাঁঝ পান। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমি টিয়্যার গ্যাসের নিক্ষেপের আওয়াজ শুনে আমার বাসার বারান্দায় গেলে বাতাসে গ্যাসের ঝাঁঝ অনুভব করি।’
উত্তেজিত প্রতিবাদকারীরা আগামী সপ্তাহে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার নীল নদের উপকূলে খার্তুমের দুটি স্থান ও ওমদুরমানের একটি স্থানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা স্বাধীনতা, শান্তি, ন্যায়বিচার স্লোগান দেয়। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ। এতে পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে শুরু করে।
সুদানে এ বিক্ষোভের শুরু হয়েছে মূলত ব্যাপক মূল্যস্ফীতির মধ্যে জ্বালানী ও রুটির দাম বৃদ্ধির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। দেশটিতে রুটির দাম ছিল ২ সেন্ট। সরকার তার দাম বৃদ্ধি করে ৬ সেন্ট করেছে। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ প্রথমে রাজধানীর বাইরে শুরু হলেও ক্রমেই তা খার্তুমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্টকে সরাতে বিক্ষোভকারীরা সেনা হস্তক্ষেপ চাইলেও বশিরের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে সেনা কর্তৃপক্ষ। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সেনাসদরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। তারা বলেছে, আমরা যা শুরু করেছি, তা শেষ দেখে ছাড়ব। যতক্ষণ না প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করবেন, ততক্ষণ আমরা এই স্থান ত্যাগ করব না। খবর বিবিসি, সিএনএন।
