পাঁচদিন পরেই বাংলা নববর্ষ

তাঁতপল্লিতে বৈশাখী শাড়ি তৈরিতে উত্সবের আমেজ

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ২৩:০৫

 ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো হে’- সুরে মন্দ্রিত হচ্ছে বাঙালির প্রাণ। ঘরে ঘরে চলছে প্রস্তুতি। পাঁচ দিন পরেই বাংলা নববর্ষ। আবহমানকাল থেকে হালখাতার মতোই বাঙালির এই প্রাণের উত্সবের  প্রধান অনুষঙ্গ মাড়ভাঙা নতুন শাড়ি-লুঙ্গি, পাঞ্জাবি-ফতুয়া। যে তরুণী সারা বছর শাড়ি পরে না, সেও নববর্ষ এলে বৈশাখী শাড়িতে নিজেকে সাজাতে চায়। দিনে দিনে তাই বৈশাখ ঘিরে বাড়ছে শাড়ির চাহিদা। বছরের এই সময়টা তাঁতিদের যেন ঈদ মৌসুম। টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ-পাবনার তাঁতপল্লিতে ঘুম নেই। দিনরাত খট খট শব্দের মুখরতা। কেউ ব্যস্ত বুননে, কেউ সুতো তুলছেন চরকায়। রঙিন সুতোর কারুকার্যে ফুটিয়ে তুলছেন বাহারি বৈশাখী নকশা। হস্ত ও যন্ত্র চালিত তাঁতের লালপাড়, হলুদ ও সাদা রঙের  ওপর বর্ণিল স্ক্রিন প্রিন্ট, সুঁই-সুতো, বাটিক আর চুমকির কাজ বসানোর ব্যস্ততা। এ সব তাঁতের শাড়িতে প্রিন্ট ও রঙ-তুলির আঁচড়ে নানান আলপনা, নকশা, তালপাখা, বাঁশের বাঁশি, ঢাক-ঢোল, সানাই, গিটার, একতারা, দোতারা, ডুগি-তবলা, খেজুরগাছ, তালগাছ, কলস ও কুলাসহ বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের নকশা ফুটিয়ে তুলছে নিপুণতায়। নকশা আর বুননে বাঙালিয়ানার ছাপ বাঙময় করে তোলা হচ্ছে। তাঁতপল্লি থেকে শাড়ি যাচ্ছে মোকামে। সেখান থেকে পাইকাররা নিয়ে যাচ্ছেন সারা দেশে। এবার কলকাতা থেকেও ব্যবসায়ীরা আসছেন বৈশাখী তাঁতের শাড়ি কিনতে।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, সোহাগপুর, এনায়েতপুর, শাহজাদপুরের তালতলা, খঞ্জনদিয়ার, রামবাড়ি, পুকুরপাড়, মনিরামপুর, প্রাণনাথপুর, শক্তিপুর, শান্তিপুর, হামলাকোলা, হাসাকোলা, ডায়া, রূপপুর, খুকনী, শিবপুর, রূপসি, গোপালপুর, গোপিনাথপুর, গাছপাড়া, কামালপুর, টাঙ্গাইলের কালিহাতি, পাথরাইল, বাজিদপুর, দেলদুয়ার, চন্ডী বল্লা রামপুরে বেচাবিক্রির ধুম পড়েছে। বেশি পাইকার আসছেন গাউছিয়া, কুষ্টিয়ার পোড়াদহ, বাবুর হাট থেকে। সিরাজগঞ্জের তৈরি বৈশাখী শাড়ি দেশের প্রায় ৭০ ভাগ চাহিদা মেটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ঢাকার বেইলি রোড, নিউ মার্কেট-গাউছিয়া, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, আজিজ সুপার মার্কেট, রাজধানী সুপার মার্কেটসহ বড় বড় মার্কেট ও বিপণী বিতানে এখন কেনা-কাটায় ব্যস্ততা চলছে। দোকানে দোকানে ঘুরে যারা কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন না তাদের জন্য এখন ঘরে বসে অনলাইনে অভাবনীয় সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনলাইনে শাড়ি পছন্দ করে অর্ডার দিলে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে পছন্দের শাড়ি-পোশাক।  ইত্তেফাকের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি মাহমুদুল কবীর জানান, তাঁত মালিকেরা ধারণা করছেন এবার তাঁত বস্ত্র বিক্রীর পরিমাণ ১শ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। জেলার সর্বত্র লক্ষাধিক তাঁত রয়েছে। এই সব তাঁত কারখানায় গত কিছুদিন আগেও মন্দাভাব ছিল। কিন্তু নববর্ষকে সামনে রেখে সেই মন্দা ভাব কেটে গেছে। এই শিল্পের সাথে সরাসরি জড়িত ৫ লক্ষাধিক মানুষের  কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁতের মাঝারি মানের শাড়ি পাঁচ শ’ থেকে তিন হাজার টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। এনায়েতপুরের ফিরোজ ইউভিংয়ের মালিক ফিরোজ হাসান অনিক, সদর উপজেলার সয়দাবাদ গ্রামের তাঁত মালিক শফিকুল আলম জানান, এবার চাহিদা বেশি। বিক্রি হচ্ছে বেশ ভালোই।

বেলকুচির সংবাদদাতা গাজী সাইদুর রহমান জানান, তামাই অবস্থিত সানি শাড়ীর মালিক সামছুল হক বলেন, অতিরিক্ত চাহিদা অনুযায়ী ঢাকা ও গাজিপুরে কাপড় সরবরাহ করেছি। অন্য বছরের তুলনায় এবার ব্যবসা ভাল পাচ্ছি।