একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নড়াইলের কালিয়া উপজেলা। উপজেলাকে জেলা সদরসহ দেশের পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে নবগঙ্গা নদী। স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও ওই নদীতে একটি সেতু নির্মাণ না করায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে উপজেলার ২৩ গ্রামের ৫ লক্ষাধিক মানুষ। মান্ধাতার আমলের খেয়া নৌকাই এখানকার মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা। খেয়াঘাটে মাত্রাতিরিক্ত টোল আদায়সহ যাত্রীদের নাজেহাল হওয়ার বিস্তর অভিযোগও রয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রার মানের যেমন উন্নয়ন ঘটেনি, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার না ঘটায় এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতিও সাধিত হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কালিয়া উপজেলার সঙ্গে নড়াইল জেলা সদরসহ দেশের পশ্চিমাঞ্চলের সরাসরি কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ওই নদীর বারইপাড়া খেয়াঘাট পার হয়ে অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াত করে থাকেন। সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় এখানে গড়ে ওঠেনি কোনো শিল্প-কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নদীর পূর্বপারে রয়েছে উপজেলা সদর। পশ্চিম পাড়ের ইউনিয়নগুলোর শত শত মানুষকে প্রতিদিন নানা কাজে উপজেলা সদরে আসতে হয়। সরকারি অফিস ও অন্য কাজে আসার পাশাপাশি কৃষকরা তাদের উত্পাদিত পণ্য নদী পার করে উপজেলা সদরে আনতে চরম দুর্ভোগের শিকার হন।
এ ছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে থানা পুলিশকেও পড়তে হয় বিপাকে। যথা সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় অপরাধীরাও পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়ে থাকে। অপরদিকে আগুন লাগা বা বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে জেলা সদর থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে না। শুধু তাই নয় জেলা বা উপজেলা সদরের স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নদী পারাপারের ক্ষেত্রে মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে খেয়া নৌকায় নদী পার হতে যেমন সময়ের ব্যাপার তেমনি বৃষ্টিতে ভিজে ক্লাসে যোগ দেওয়াও কোনো কোনো সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। জেলা ও উপজেলা সদরে যাওয়ার জন্য ওই নদীর বারইপাড়া ও কাঞ্চনপুর নামক স্থানে দুটি খেয়াঘাট রয়েছে। প্রতিবছর সরকার খেয়াঘাট দুটি ইজারা দিয়ে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করে থাকে। খেয়াঘাট দুটিতে ইজারাদারদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সরকারের নির্ধারিত টোলের চেয়ে দ্বিগুণ টোল আদায় ওই সব ঘাটে নিত্যদিনের ঘটনা বলে এলাকাবাসীসহ যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।
বাবুল মোল্লা ও কামাল মোল্লা নামে দুই যাত্রী জানান, তারা প্রায়ই জেলা ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করে থাকেন। খেয়াপারে জনপ্রতি ৫ টাকা ও মোটরসাইকেল প্রতি ১৫ টাকা হারে মাশুল ধার্য করেছে ইজারাদার। ওই সব খেয়াঘাটের ইজারাদারদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
খেয়াঘাটের মাঝি জাকির হোসেন ওই হারের মাশুল নেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইজারাদারের দিনমজুর হিসেবে দীর্ঘদিন লোক পারাপার করে আসছি। তিনি প্রতিদিন দেড় থেকে দুই শত মোটরসাইকেল ও সহস্রাধিক মানুষ পারাপার হয়ে থাকে।
কালিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান শামীম রহমান বলেন, নড়াইল জেলা সদরের সঙ্গে কালিয়া উপজেলাসহ পশ্চিমাঞ্চরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য তিনিসহ সকলেই নবগঙ্গা নদীর বারইপাড়া নামকস্থানে একটি সেতুর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি কালিয়ার মানুষের দুঃখ নবগঙ্গা সেতুটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সকল মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইত্তেফাক/নূহু
