নবাবগঞ্জে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৪৯

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ফসলি জমির মাটি কাটা চলছেই। পত্রপত্রিকায় এত লেখালেখি, এত ছবি, তবু ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধে উদ্যোগ নেই প্রশাসনের।

এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে দিঘিরপাড় গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই গ্রামের পান্নু কারিকরের জমি দোহারের নিকড়া এলাকার প্রভাবশালী মাটি কাটা সিন্ডিকেটের হোতা অনু, সুমন, সেন্টু গংরা নবাবগঞ্জ উপজেলার দিঘিরপাড় ও  দোহারের ঘাটা মৌজার ফসলি জমিতে ভেকু দিয়ে দেদারসে মাটি কেটে বিক্রি করছে ইটের ভাটায়। অন্যের ফসলি জমির ওপর দিয়ে যেভাবে মাটিবাহী ট্রাক্টর চলছে এতে প্রচুর ধুলা বালু সৃষ্টি হয়ে জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। চাষিরা বাধা দিতে এলে হুমকির শিকার হতে হয় তাদের। এতে করে অসহায় বর্গা চাষিদের আর কিছু করার থাকে না। চাষিরা বলেন, আমরা ওদের সঙ্গে শক্তিতে পারব না। প্রশাসন নজর না দিলে ওদের মাটি কাটা কিছুতেই বন্ধ হবে না।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, আমার জমির ওপর দিয়ে চলছে মাটি টানার গাড়ি। কোনো কথাই তারা শুনছে না। জমিতে চাষ করেছি গরুর ঘাস। গাভীর জন্য কাঁচা ঘাসটাই দরকার বেশি। কিন্তু ধুলায় সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ সব বন্ধ না হলে দুধের গাভীর খাদ্য সংকট দেখা দেবে। এছাড়া ধুলায় অন্যান্য আবাদি জমির ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

কৃষক শামীম বলেন, অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে খাই। জমির ওপর দিয়ে ট্রাক্টর চালিয়ে ফসলাদি নষ্ট করছে তারা। প্রশাসনের উচিত তাড়াতাড়ি মাটি কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। আরেক ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক মো. কামালও জানালেন একই কথা। 

জমির মালিক মাটি বিক্রেতা পান্নু কারিকরের ভাতিজা সুমন বলেন, জমিটা আমাদের এজমালী ফসল না হওয়ায় মাটি বিক্রি করে দিচ্ছি। এতে প্রশাসনের অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে সুমন বলেন, ‘সেন্টুরা মাটি কিনে নিয়েছে। ওরা বলছে আমরা যেখানে যা লাগে সব ঠিক করে নেব।’ মাটি কাটার ব্যাপারে নিকড়া গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী বলে পরিচিত অনু বেপারী বলেন, আমি এখন মাটির ব্যবসা করি না, আগে করতাম। এখন মাটি কাটার সঙ্গে কে কে জড়িত জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেন্টু গংরা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। সেন্টুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধে খুব দ্রুত মোবাইল কোর্ট করা হবে।