গত তিনদিনের বর্ষণ ও নিম্নচাপে সৃষ্ট জোয়ারের প্রভাবে বাবুগঞ্জের সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।উপজেলার সবকটি নদীর পানি এখন বিপদসীমা পেড়িয়ে আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। তলিয়ে গেছে উপজেলার বেশ কয়েকটি গুচ্ছগ্রাম ও চরাঞ্চল।
অসহায় হয়ে পড়েছেন প্লাবিত এলাকার শতাধিক পরিবার। অনেকে গবাদি পশু নিয়ে পড়েছেন বিপদে। নিম্নাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছেনা প্লাবনে ডুবে গেছে তাদের যাতায়াতের রাস্তা। ব্যাহত হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ। শনিবার সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া নতুন চর এলাকার তিন ভাগের দুই ভাগই পানিতে ডুবে গেছে।
দক্ষিণ ভূতেরদিয়া নতুনচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাজগুরু নতুনচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পানিতে আটকা পরে ছিল বেশ কয়েক ঘণ্টা। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লামচর ক্ষুদ্রকাঠি গুচ্ছ গ্রাম, কেদারপুর ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গুচ্ছ গ্রাম, দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া, চরমলঙ্গা ও রমজানকাঠি এলাকা। কেদারপুর ইউনিয়নের ছানির চর, চর উত্তর ভূতেরদিয়া, পূর্ব কেদারপুর। রহমতপুর ইউনিয়নের লামচর ক্ষুদ্রকাঠি, বোয়ালিয়া, ক্ষুদ্রকাঠি, মহিষাদি,দোয়ারিকা।
এ ছাড়াও পানিবন্দী হয়ে পড়েছে জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের লাশঘাটা, ভাঙ্গার মুখ, চর আলগী, চর হোগল পাতিয়া, নতুন চরজাহাপুর, লামচর ঘোষকাঠি এলাকা। গবাদি পশু নিয়ে ইতিমধ্যে অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন পার্শ্ববর্তী উঁচু সড়কে। রহমতপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার মাহামুদ জানালেন উল্লেখিত তার এলাকার নিম্নানঞ্চলের শত শত পরিবার প্লাবনে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় বলেন, নিম্নচাপ ও ৩ দিনে টানা বর্ষণের ফলে উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। জোয়ারের প্রভাবে সৃষ্ট প্লাবন ঠেকাতে একমাত্র উপায় হচ্ছে নিম্নাঞ্চলে নদীর তীরবর্তি এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা।
ইত্তেফাক/জামান
