ইট পাথরের যান্ত্রিক শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে প্রকৃতির আপনকোলে সবুজের অভয়ারণ্যে প্রতিষ্ঠিত আমাদের প্রাণের বিদ্যাপীঠ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মেধাবীদের সমন্বয়ে বৈচিত্র্য সংস্কৃতির এক পরিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে রয়েছে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নিজ নিজ এলাকার শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনেক আঞ্চলিক সংগঠন। তেমনি একটি আঞ্চলিক সংগঠন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট ইউনিয়ন অফ নাঙ্গলকোট।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে শেকড় থেকে আসা শিক্ষার্থীদের দিয়ে সংগঠনটি নানান ধরনের কার্যক্রম আয়োজন করে আসছে। এবারো সংগঠনটির সম্পূর্ণ একটি ভিন্নধর্মী আয়োজন যোগ করেছে নতুন মাত্রা। স্মৃতির পাতাকে আরেকটু সমৃদ্ধ করতে হঠাত্ করেই আশিকের মাথায় এল চড়ুইভাতির কথা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এসে সেই ছোট্ট বেলায় আবার খানিকটা ফিরে যাওয়া, শুনেই অন্য রকম অনুভূতি। তানভীর সঙ্গে সঙ্গেই ফেইসবুকে গ্রুপে একটি পোস্ট দিয়ে দিল। সামান্য চাঁদার পরিমাণ নির্ধারণ করা হলো। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই সাইফুল, জাহিদ, শামীম, রিদয় সবার থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে দ্রুত সময়ে সব আয়োজন করে ফেলল।
নির্ধারিত দিনে সবাই উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সামাজিক বনায়নে। সিনিয়র জুনিয়রের আন্তরিকতা ও ভালোবাসার মেলবন্ধন এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনে ভাসিয়েছে আনন্দের জোয়ারে। রান্না শেষ হওয়ার পর আকাশে নেমে আসল ঘন মেঘ। খানিকটা দুশ্চিন্তায় ভোগাল এই নাকি বৃষ্টি পুরো আয়োজনকে ম্লান করে দেয়। কিন্তু না, ঘনঘোর অন্ধকার আর মেঘে ভরা আকাশ একটু পরেই হয়ে উঠে রঙধনু রঙা। আর রাঙা আকাশ রাঙিয়ে তুলেছিল চড়ুইভাতির সমস্ত আয়োজনকে।
খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষে পড়ন্ত বিকালে শুরু হলো নবীন শিক্ষার্থীদের বরণের পর্ব। ফুল দিয়ে এক এক করে বরণ করে নেওয়া হলো নবীনদের। সারা দিনের উচ্ছ্বাস ও উল্লাসে ভরা দিনটিকে স্মৃতির পাতায় অনন্য একটি দিন হিসেবে যোগ করে শেষ হলো আমাদের শিকড়ের চড়ুইভাতি।
