বিশ্বের সর্বত্র শ্রমবাজারে পুরুষের চেয়ে নারীর অংশগ্রহণ অনেক কম। নারীরা পুরুষের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ পিছিয়ে আছে। অনেক উন্নতি সত্ত্বেও শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ ৪৮ দশমিক পাঁচ শতাংশ। গত বিশ বছরে বিশ্বময় নারী উন্নয়ন সত্ত্বেও শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ পুরুষের চেয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে পিছিয়ে আছে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল লেবার অরগানাইজেশন আইএলও। নারী দিবস প্রকাশিত এক গবেষণায় প্রাপ্ততথ্য আইএলওর কেন্দ্রীয় কার্যালয় জেনেভা থেকে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে বিশ্বময় নারীর বেকারত্বের হার ছয় শতাংশ যা পুরুষের তুলনায় দশমিক আট শতাংশ উপরে। গবেষণায় দেখা যায়, নারীরা তাত্পর্যপূর্ণভাবে গুণগতমানের কাজের ক্ষেত্রে এবং ব্যবস্থাপনায় পিছিয়ে আছে। পুরুষের তুলনায় নারীরা দ্বিগুণ বেশি পরিবারের কাজে সময় দিচ্ছে। তারা বাড়ির ব্যবসাতে কাজ করেও পারিশ্রমিক পাচ্ছে না, এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়ও তারা আছে। তাদের কাজের স্বীকৃতি নাই। ২০২১ সাল নাগাদ এই অবস্থার পরিবর্তন হবে না। যার ফলে নারী উন্নয়নশীল দেশে অধিক পরিমাণে অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে যুক্ত থাকবে। গবেষণায় লিঙ্গ বৈষম্য বাড়িয়ে দেওয়াই নির্দেশ করে। এবং সামাজিক নিরাপত্তা ক্ষীণ করে। তাই এটি গুরুত্বপূর্ণ।
আবার সন্তান জন্ম ও লালনপালনের জন্য তাদের কাজে প্রভাব পড়ে। অনেক অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু বলেন, পুরুষকেও সন্তান লালন পালন এবং ঘরের কাজে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। আমাদের দেশে পুরুষরা বাবা হওয়ার জন্য সেভাবে ছুটিও পান না। অথচ দিনে দিনে যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ায় সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় মায়ের পাশে বাবারও বিশেষ প্রয়োজন।
জানা যায় সম্প্রতি সকল কর্মীর জন্য এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটির নতুন নীতি বাস্তবায়ন করেছে ব্র্যাক। চলতি বছর এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে এই নীতি কার্যকর হয়েছে। আমাদের জানামতে, কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে সাতদিন বা সর্বোচ্চ ১৫ দিন পর্যন্ত পিতৃত্বকালীন ছুটির কথা বলা আছে। কিন্তু এক মাসের ছুটি সম্ভবত বাংলাদেশে অন্য কোথাও নেই। এছাড়াও, ব্র্যাকের নারী কর্মীদের জন্য ছয় মাসের বৈতনিক মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং বিনা বেতনে আরো ছয় মাসের ছুটির সুবিধাতো অনেক আগে থেকেই আছে। তাই বাংলাদেশে চাকরিজীবীদের মা ও বাবার জন্য পিতৃত্বকালীন ছুটির প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
ছবি: ইন্টারনেট
