লোহাগড়ার ধানক্ষেতে পোকার আক্রমণ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ০০:২১

গাছফড়িং বা কারেন্ট পোকার আক্রমণে লোহাগড়ায় বিবর্ণ হয়ে গেছে ধান ক্ষেত। হঠাত্ করে ক্ষেতে পোকার আক্রমণে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এর ফলে ধান উত্পাদন অনেক কমবে বলে চাষিদের আশঙ্কা করছে। বাজারে প্রচলিত যেসব কীটনাশক পাওয়া যাচ্ছে তা ছিটিয়ে এই পোকা দমন করতে পারছে না। আবার হঠাত্ চাহিদা বাড়ায় কীটনাশকের সংকটও সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় পোকা দমনে আলোক ফাঁদ ও পাইরাজিন নামক কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। তবে চাষিদের বেশিরভাগই আলোক ফাঁদ সম্বন্ধে অজ্ঞ। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় সাত হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু চাষ হয়েছে নয় হাজার ৭৮০ হেক্টরে। গত দুই সপ্তাহ নাগাদ হঠাত্ করে ধানের জমিতে বাদামি গাছফড়িংয়ের আক্রমণ বেড়ে গেছে।

গত শনিবার দুপুরে ধানসমৃদ্ধ উপজেলার কালনা, চরকালনা, তেতুলিয়া,করফা পাচুড়িয়া, মোচড়া, জয়পুর, নারানদিয়া, মানিকগঞ্জ, রামকান্তপুর, মল্লিকপুর, লাহুড়িয়া, ইতনাসহ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে যেখানে থাকবে সবুজের সমারোহ, সেখানে এখন ধান গাছের বিবর্ণ হয়েছে পাতা। নানা ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করেও চাষিরা ফড়িং মারতে পারছেন না। পোকা এক মাঠ থেকে আরেক মাঠে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় কৃষকরা এই ফড়িংয়ের নাম দিয়েছেন কারেন্ট পোকা।

 চর কালনা গ্রামের সাহেব মীর, চরবগজুড়ি গ্রামের মহিউদ্দীন মোল্যা জানান, বাদামি গাছফড়িং (বিপিএইচ) বা কারেন্ট পোকা রোপা বোরো ও আমন ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়েছে। ধান গাছে থোড় আসার পর পোকার আক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। পোকার ডিম থেকে বেরিয়ে আসা বাদামি ফড়িংয়ের বাচ্চা ও পূর্ণবয়স্ক উভয় পোকা দলবদ্ধভাবে ধান গাছের গোড়ার দিকে অবস্থান করে গাছ থেকে রস খেয়ে ফেলছে। আর এ কারণে গাছ দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে।  পোকার আক্রমণে ধান গাছ প্রথমে হলুদ ও পরে শুকিয়ে বাদামি রঙ ধারণ করছে।  লোহাগড়া বাজারের বিশিষ্ট কীটনাশক ব্যবসায়ী বিশ্বনাথ দাশ জানান, প্রতিদিনই শত শত কৃষক কারেন্ট  পোকা দমনের জন্য কীটনাশক কিনতে আসছেন। কিন্তু বাজারে কীটনাশকের সরবরাহ কম। ফলে কীটনাশক না পেয়ে অনেক কৃষকই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ্বাস বলেন, এই পোকার নাম বাদামি গাছফড়িং  (বিপিএইচ)। স্থানীয়ভাবে এই পোকাকে কৃষকরা কারেন্ট পোকা বলে। তবে এই পোকা দমনে ধানক্ষেতে আলোক ফাঁদ তৈরির পাশাপাশি পাইরাজিন নামক কীটনাশক  স্প্রে করার জন্য কৃষকদের বলা হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু