মহেশখালীতে স্কুলছাত্রীর 'আত্মহত্যা', মামলায় সৎ মা গ্রেফতার

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ১১:০৮
 
কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্কুলছাত্রী আত্মহত্যার সাত মাস পর অবশেষে ডাক্তারি রিপোর্ট নিয়ে সৎ মায়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু করেছে মহেশখালী থানা পুলিশ। এই মামলায় অভিযুক্ত সৎ মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
 
নিহত মাসুকা আক্তার (১৩) উপজেলার বড় মহেশখালী বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ও পশ্চিম দেবাঙ্গপাড়া গ্রামের হেলাল উদ্দিনের মেয়ে।
 
ঘটনার সূত্র ও পুলিশে ভাষ্যমতে, গত ৭মার্চ সকালে মাসুকার বাবা হেলাল উদ্দিন স্কুলের বেতনের জন্য মেয়েকে ১৮০ টাকা দেয়। মাসুকা সেই টাকা পাঠ্য বইয়ের ভিতর রাখে। স্কুলে যাওয়ার সময় টাকা খুঁজতে গিয়ে টাকা না পাওয়ায় সৎ মা সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে মাসুকার তর্কবিতর্ক হয়। মাসুকার দাবী ছিল সৎ মা'র অপর ছেলে স্কুলের ১৮০টাকা চুরি করেছে। তর্কবিতর্কে এক পর্যায়ে সৎ মা মাসুকাকে আচারের বোতল নিয়ে কপালে আঘাত করলে সে অভিমান করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। ওই দিন মাসুকার বাবা হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় ইউডি মামলা দায়ের করেন।
 
দীর্ঘ সাত মাস পর ২৩অক্টোবর পোস্ট মডেম রির্পোটে শ্বাসরোধ ও কপালে রক্ত জমাট আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ডাক্তারি প্রতিবেদন পাওয়ার পর মহেশখালী থানার সুরতহাল রির্পোট তৈরিকারী কর্মকর্তা এস আই ইমাম হোছেন চৌধুরী বাদী হয়ে সৎ মা সাবিনা ইয়াসমিনকে একমাত্র আসামি করে থানায় ৩০২ ধারায় সৎ মায়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
 
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বড় মহেশখালী পশ্চিম দেবাঙ্গপাড়া গ্রাম থেকে সৎ মা সাবিনা ইয়াসমিনকে গ্রেফতার করে।মাসুকার জন্মদাতা মা মোমেনা বেগম দুই সন্তান নিয়ে হেলাল উদ্দিনের সংসার থেকে ডিভোর্স হলে কুতুবজোম খোন্দকার পাড়া গ্রামের ইলিয়াস খলিফার মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিনের বিয়ে হয়। গ্রেফতার হওয়া সাবিনার দুগ্ধ সন্তান রয়েছে। মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানায়, ঘটনার বিষয়ে ডাক্তারি রির্পোটের পর মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা এজাহার নামীয় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/জামান