রুয়ান্ডায় গণহত্যার পর বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ দেশত্যাগের ঘটনা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ১২:২১
জেনেভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান বলেছেন, দশ লাখের মতো রোহিঙ্গা শরণার্থী মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। এতে প্রতিবেশী বাংলাদেশের হিমশিম খাওয়ার মতো অবস্থা। মিয়ানমারকে দ্রুত তাদের ফিরিয়ে নেয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার জাতিসংঘের অঙ্গীকার সম্মেলনে তিনি এ আহবান জানান। 
 
শামীম আহসান আরো বলেন, ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় গণহত্যার পর কোন একক দেশ থেকে এটি বৃহৎ দেশত্যাগের ঘটনা। রাখাইনে সহিংসতা এখনো থামেনি, যদিও বিপরীত দাবি করা হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বাংলাদেশে ঢুকছে। একটি ‘দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে’র জন্য আলোচনায় অংশ নিতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার নেপিদো গেছেন।
IMG0
তিনি আরো বলেন, কিন্তু প্রচারণার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় অমার্জিতভাবে অস্বীকার করায় সংকটে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য জীবন রক্ষাকারী সহায়তার জন্য জাতিসংঘ আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৪৩৪ মিলিয়ন ডলার চেয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ সহায়তা বিভাগের প্রধান মার্ক লৌকক আলোচনায় বলেন, তীব্রতর হওয়া চাহিদা পূরণে আমাদের আরো অর্থ প্রয়োজন। এটা একটি বিচ্ছিন্ন সংকট নয়। নির্যাতন, সহিংসতা এবং স্থানচ্যুতির দশকব্যাপী চক্রের এটি সবচেয়ে নতুন ঘটনা। তিনি আরো বলেন, নিঃস্ব সহায়সম্বলহীন ও মানসিক ক্ষত বহন করা শিশু, নারী এবং পুরুষরা পালিয়ে স্রোতের মতো বাংলাদেশে ঢুকছে। 
IMG1
সভার মধ্যদিবস বিরতির আগে তিনি বলেন, আমরা ছয় লাখ রোহিঙ্গার সহায়তায় ইতিমধ্যে ৩৪০ মিলিয়ন ডলার প্রদানের একটা খসড়া অঙ্গীকার করেছি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৩০ মিলিয়ন ইউরো, কুয়েত ১৫ মিলিয়ন ডলার, অস্ট্রেলিয়া ১০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার এবং যুক্তরাজ্য ১২ মিলিয়ন পাউন্ড প্রদানের অঙ্গীকার করেছে। এদিকে ইউনিসেফের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কয়েক লক্ষ নারী ও শিশু এখনো জীবন রক্ষাকারী মৌলিক সুবিধা বঞ্চিত। রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা হ্রাসের কোন লক্ষণ নেই। রয়টার্স।
 
ইত্তেফাক/সেতু