পাকিস্তানে টিএলপি নেতা রিজভি গ্রেফতার

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৮, ২১:১৪

ব্লাসফেমির (ধর্ম অবমাননার) অভিযোগে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত আসিয়া বিবির দণ্ড বাতিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া এক কট্টর ইসলামপন্থি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পাকিস্তান। ডানপন্থি তেহরিক-ই লাব্বাইক (টিএলপি) পার্টির নেতা খাদিম হুসেইন রিজভিকে গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে সাদ রিজভি। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, পূর্বাঞ্চলীয় লাহোর শহরের খাদিম রিজভির পরিচালনাধীন এক মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে টিএলপির বেশকিছু সমর্থককেও।

টিএলপি নেতা খাদিম হুসেইন রিজভিকে গ্রেফতারের বিষয়ে এক টুইটার বার্তায় পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ২৫ নভেম্বর টিএলপির ডাক দেওয়া বিক্ষোভ প্রত্যাহার করতে অসম্মতি জানানোয় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জনগণের জীবন, সম্পত্তি, এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, তাকে নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে একটি গেস্ট হাউজে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদপত্র ডন জানিয়েছে, রবিবার শহীদ দিবস পালন করতে দলীয় সমর্থকদের রাজধানীতে মিছিলের আহ্বান জানিয়েছিলেন রিজভি।

ফাওয়াদ চৌধুরী অবশ্য বলেছেন, রিজভিকে গ্রেফতারের সঙ্গে আসিয়া বিবির মামলার সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে সুপ্রিম কোর্টে আসিয়া বিবির সাজা বাতিলের রায় প্রত্যাখ্যান করে ওই নারীকে জনসমক্ষে হত্যার দাবি করে আসছে টিএলপি। দলের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আফজাল কাদরি সাজা বাতিলের রায় দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারককেও হত্যার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ৩১ অক্টোবর আসিয়া বিবির মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এরপরেই সারা পাকিস্তানে ব্যাপক সহিংস বিক্ষোভ শুরু করে কট্টরপন্থিরা। বিক্ষোভের জেরে আসিয়া বিবির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার শর্তে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে তারা। পরে আসিয়াকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে গেলে সরকারের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন কট্টরপন্থি নেতারা। এর অগ্রভাগে ছিল টিএলপির নেতাকর্মীরা।

২০১০ সালে পাকিস্তানের ধর্ম অবমাননা সংক্রান্ত আইনে আসিয়া বিবিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে বিশ্বজুড়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। এমনকি পাকিস্তানেও তার পক্ষে দাঁড়ান অনেকে। তবে এদের মধ্যে অন্তত দুইজনকে তাদের অবস্থানের কারণে হত্যার শিকার হতে হয়েছে।

আসিয়া বিবির পক্ষে কথা বলায় পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসিরকে হত্যা করে তারই দেহরক্ষী। আর সেই দেহরক্ষীকে পাকিস্তানে বীর হিসেবে আখ্যায়িত করে তেহরিক-ই-লাব্বাইক। প্রসঙ্গত, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের হিসাবে পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ১৯৯০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে।