শাহজালাল বিমানবন্দরে নাটকীয়ভাবে আবারো 'স্বর্ণমানব' আটক

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৭, ০৯:৫১
 
শুল্ক গোয়েন্দার দল বৃহস্পতিবার ভোরে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে আগত এক 'স্বর্ণমানব'কে আটক করেছে। আটককৃতের শরীরের অভ্যন্তর থেকে ৮টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে।
 
এসব স্বর্ণ তিনি তার মলদ্বারে বহন করছিলেন। আটককৃতের নাম মোশারফ হোসেন (৪২)। তিনি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মতিউর রাহমান বেপারীর ছেলে।
 
বৃহস্পতিবার ভোরে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মোশাররফ শাহাজালালে অবতরণ করেন। শুল্ক গোয়েন্দা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে নজরদারিতে রাখে। কাস্টমস এবং ইমিগ্রেশন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে গ্রিন চ্যানেল পেরিয়ে চলে যাওয়ার সময় তাকে চ্যালেঞ্জ করে শুল্ক গোয়েন্দার দল।
 
স্বর্ণমানবের চোখে কালো দাগ ও হাঁটাচলায় অস্বাভাবিকতা লক্ষ করলে শুল্ক গোয়েন্দার সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়। তবে স্বর্ণমানব কোনোভাবেই তার পেটে স্বর্ণ থাকার কথা স্বীকার করছিলেন না। পরে তাকে শুল্ক গোয়েন্দার অফিসকক্ষে নিয়ে এনে বিশদ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু তিনি বারংবার তার কাছে স্বর্ণ থাকার কথা অস্বীকার করতে থাকেন।
 
আটক ব্যক্তির শরীরে স্বর্ণ থাকার ব্যাপারে শুল্ক গোয়েন্দার কাছে নিশ্চিত তথ্য থাকায়, কর্মকর্তারা অনমনীয় থাকেন। পরে আর্চওয়ে মেশিনে হাটিয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। নিজে থেকে বের না করে দেওয়ায় যাত্রীকে উত্তরার একটি ক্লিনিকে নিয়ে এক্সরে করানো হয়। রিপোর্টে যাত্রীর তলপেটে স্বর্ণের অস্তিত্ব সম্পর্কে আরো নিশ্চিত হয় শুল্ক গোয়েন্দার দল। কর্তব্যরত ডাক্তারও এটি উল্লেখ করেন।
 
এরপর যাত্রীকে বিমানবন্দর এনে শরীর থেকে স্বর্ণ বের করার চেষ্টা চলতে থাকে। বরাবরের মতো স্বর্ণমানবকে কলা ও প্যাকেট জুস খেতে দেয়া হয়। আরও দেয়া হয় লুঙ্গি। লুঙ্গি পরে শুল্ক গোয়েন্দাদের উপস্থিতিতে টয়লেটের অভ্যন্তরে বিশেষ কায়দায় পায়ুপথ দিয়ে একে একে ৭টি স্বর্ণবার বের করে আনেন এবং পরে তার মানিব্যাগ থেকে আরও ১টিসহ মোট ৮ টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়।
 
স্বর্ণমানবের থেকে আটক স্বর্ণের মূল্য প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। আটক মোশারফ হোসেনকে চোরাচালানের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আটককৃত স্বর্ণ কাস্টমস গুদামে জমা করা হবে। পরে তা বিশেষ প্রহরায় বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
 
ইত্তেফাক/জামান