রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তি পরীক্ষার হলে গণিত বিভাগের তিন ছাত্র আব্দুর রহমান, জাকির হোসাইন ও সোহেল রানাকে দায়িত্ব দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমান বড় ধরণের জালিায়াতি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ওই তিন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে কাকে সহযোগিতা করিয়েছেন তা এখনো জানা যায়নি। এদিকে ছাত্রদের দিয়ে দায়িত্ব পালন করানোর দায় প্রক্টর, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, বিজ্ঞান অনুষদের পরিচালনার জন্য গঠিত কমিটির আহ্বায়কসহ কেউ নিতে চাচ্ছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর সকালে সকল ইউনিটের প্রশ্ন ছাপিয়ে ওইদিনই দুপুরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ডিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০ তারিখে প্রশ্নগুলো প্যাকেটিং করে ডিন অফিসের লকারে রাখা হয়। পরীক্ষার এতো আগে প্রশ্ন ছাপানো বিষয়টি নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে গত ২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত 'এইচ' ও 'জে' ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁসের গুঞ্জন আরো জোরালো হয়েছে বলে জানা গেছে।
অনুষদ সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নিজ বিভাগের ছাত্রদের সহায়ক কর্মচারী হিসেবে পরীক্ষার হলে দায়িত্ব দেয়ার জন্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন বরাবর সুপারিশ করেন। সুপারিশ অনুসারে ওই অনুষদের পরীক্ষা পরিচালনার জন্য গঠিত সাত সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম সাউদ ওই শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব বণ্টন করেন। পরে পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত শিক্ষকরা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আখতার ফারুকে অভিযোগ করলেও অদৃশ্য কারণে পরীক্ষার হল থেকে ওই শিক্ষার্থীদের সরানো হয়নি। এসময় প্রক্টরের নিজ বিভাগের ওই শিক্ষার্থীদের কাছে স্মার্টফোন ছিল বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমান একেক সময়ে ভিন্নভিন্ন কথা বলে অন্যের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘গণিত বিভাগের এক শিক্ষকের কারণে এমন হয়েছে। আমি সুপারিশ করিনি। আর আমি যদি সুপারিশ করেই থাকি তাহলে অনুষদের ডিন ও পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি কেনো যাচাই-বাচাই করা হলো না?’ তবে গণিত বিভাগের কোন শিক্ষক এমন করেছেন সেটা তিনি বলেননি।
বিজ্ঞান অনুষদের পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গির আলম সাউদ বলেন, দায়িত্ব বণ্টনের জন্য আমাকে শিক্ষক ও কর্মচারীদের নামের তালিকা দেয়া হয়েছিল। আমি সে অনুযায়ী কক্ষগুলো দায়িত্ব বণ্টন করেছি। সেখানে কে ছিল সেটা যাচাইয়ের দায়িত্ব আমার নয়। তবে ওই সুপারিশকৃত তালিকায় কোনো ছাত্রের নাম দেয়া কোনো ভাবেই উচিত হয় নি। তালিকায় ছাত্রদের নাম আছে এমন জানতে পারলে আমি তাদের দায়িত্ব দিতাম না।’
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আখতার ফারুক বলেন, ‘আমি শুনেছি। কিন্তু দায়িত্ব দেয়ার পেছনে আমার কোনো হাত নেই। দায়িত্ব দেয়ার বিষয়টি পরিচালনার জন্য একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। ওই কমিটি এটা পরিচালনা করেছেন।
ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নে ধর্মীয় উসকানি ও পরীক্ষার হলে ছাত্রদের দায়িত্ব দেয়ায় প্রতিবাদ: বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত রাবির চারুকলা অনুষদভুক্ত 'আই' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ধর্মীয় উসকানিমূলক প্রশ্ন করা হয়েছে এমন অভিযোগ ও পরীক্ষার হলে ছাত্রদের দায়িত্ব দেয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্রজোট। পরীক্ষায় ২নং সেট কোড প্রশ্নপত্রে ৮০টি প্রশ্নের মধ্যে ৪১ এবং ৭৬নং প্রশ্নে চরম সাস্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই প্রশ্নদুুুটি হলো, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থের নাম কি এবং মুসলমান রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা সশস্ত্র হামলা চালায় কত তারিখে।
এ বিষয়ে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন. ‘এ বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়নি। তবে এ প্রশ্ন দুটিতে সবাইকে মার্কস দিয়ে দেয়া হবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘ধর্মীয় বিষয় নিয়ে এমন প্রশ্ন করা উচিত হয়নি। শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনে এমন প্রশ্ন করা ঠিক হয়নি। প্রশ্নের ধরন দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমি নিজেই লজ্জিত।’
দুই পরীক্ষার্থী বহিষ্কার: জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত এফ-৩ শিফটের পরীক্ষা চলাকালে দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনের ২৪৪ নম্বর কক্ষ থেকে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে রুবেল হোসেন ও সাকিব হাসান নামে দুইজনকে বহিষ্কার করা হয়।
ইত্তেফাক/আরকেজি
