পাঁচ বছর পর কক্সবাজার যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ঢাকার বাইরে সফরে বেরুলেন তিন বছর পর। ঢাকা থেকে চারশ' কিলোমিটারের বেশী দূরত্বের পথ। তার সামনে পিছনে বিশাল গাড়ী বহর। নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনার আবহ। পথে পথে শোডাউন। আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক নেতাদের জনসমর্থন-লোকবল প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা চলছে। ব্যানার ফেস্টুন প্ল্যাকার্ডে ছেয়ে গেছে মহাসড়কের দুই ধার।
শ্লোগানমুখর পথমালা। কোথাও কোথাও সড়কের পাশে মঞ্চ পেতে বক্তৃতা দিচ্ছেন স্থানীয় নেতারা। নেতার নামে শ্লোগান,অমুক নেতাকে এমপি হিসাবে দেখতে চাই। যেন নির্বাচনী প্রচারণার মহড়া।দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি গ্রামের সাধারণ নারী-পুরুষও খালেদা জিয়াকে দেখার জন্য রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছে। কোন কোন স্থানে রাস্তার দুপাশে নেতাকর্মীদের ঢল নামে।
IMG0
সকাল ১০ টা ৪০ মিনিটে বেগম খালেদা জিয়া গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে রওনা হয়ে নয়াপল্টনে পৌঁছালে সেখানে নেতাকর্মীদের বড় জমায়েত ঘটে। নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখর হয় আশপাশ। বেগম জিয়ার বহর ফকিরাপুল, আরামবাগ, মতিঝিল, টিকাটুলি, যাত্রাবাড়ী, কাজলা, শনিআখড়া, রায়েরবাগ,সাইনবোর্ড ,কাঁচপুর ব্রিজ,গজারিয়া,দাউদকান্দি,গৌরীপুর,কুমিল্লা হয়ে ফেনী সার্কিট হাউজের দিকে চলছে গাড়ীবহর। যাত্রাবাড়ীর পর পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। খালেদা জিয়ার সাথে আছে নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী-সিএসএফ। বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবকদল, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ সংগঠনের বাছাই করা নেতাদের সমন্বয়ে গড়া নিরাপত্তা দলের আলাদা বেষ্টনী।
চিটাগাং রোডে এসে শতাধিক গাড়ীর বহর যানজটে পড়ে। দেড় ঘণ্টায়ও পার হতে পারেন নি কাঁচপুর ব্রীজ। প্রায় স্থবির অবস্থা ছিলো। সফরসঙ্গী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেখা যায় গাড়ী থেকে নেমে গাড়ী চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছেন।
IMG1
কাঁচপুরের পর ফেনী অব্দি পুরো রাস্তায় কোথাও বিপত্তি দেখা যায়নি। তবে বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাগত ও অভ্যর্থনা জানাতে কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর অবস্থান করা নেতাকর্মীদের উপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে বেগম জিয়ার গাড়ী পৌঁছে সোয়া ৩ টায়। মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই অভিযোগ করেন যে,খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর গজারিয়া পার হওয়ার আগে বেলা পৌনে ১২টা থেকে ১২টা পর্যন্ত আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি অবরোধ করে আটকে রাখার চেষ্টা চালায়। এসময় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় তারা যাত্রীবাহী একটি বাস ভাংচুর করে বাধা প্রদান করে।
জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম পিপিএম জানান, অবরোধের কোন ঘটনা ঘটেনি। কমিউনিটি পুলিশের আয়োজনে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা অবস্থান নিয়েছিল, তারা দলীয় শ্লোগান দেয়। এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান,বিএনপি চেয়ারপার্সনের সফরকে ঘিরে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। চেয়ারপারসনকে স্বাগত জানাতে রাস্তার দুই পাশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে।
IMG2
পথিমধ্যে বেগম জিয়া ফেনি সার্কিট হাউসে যাত্রাবিরতির পর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে গিয়ে রাত্রিযাপন করবেন। আগামীকাল ২৯ অক্টোবর তিনি কক্সবাজার পৌছবেন এবং ৩০ অক্টোবর কক্সবাজার জেলার উখিয়া, বালুখালী, বোয়ালমারা এবং জামতলী এলাকায় অবস্থিত রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোতে অবস্থানরতদের পরিদর্শন ও দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে ৩১ তারিখে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
ইত্তেফাক/সাব্বির
