খালেদা জিয়া নিরাপদে বাসায় ফিরেছেন

মহিপালে ফিরতি গাড়িবহরের কাছে বাসে পেট্রোল বোমা-আগুন, আটক ৪

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৭, ০৮:৫৮
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ফেরার পথে মঙ্গলবার বিকালে ফেনীর মহিপালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের কাছে পেট্রোল বোমায় দু’টি বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। বিকেলে সাড়ে ৪টায় খালেদা জিয়ার ধাবমান গাড়ির পেছনে ৫০ গজের মধ্যে সড়কের বিপরীত পাশে হঠাৎ এই সহিংসতায় কেউ হতাহত হয়নি। বোমা ও আগুনের ঘটনার পর পরই রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নেয়া বিএনপি নেতা-কর্মীরা হামলাকারীদের ধাওয়া দেয়। তারা সেখানে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে। পরে দলের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার গাড়িটির চারপাশে মোটরসাইকেল প্রহরা দিয়ে নিরাপদে ফেনীর সীমান্ত মোহাম্মদ আলী বাজার পর্যন্ত এগিয়ে দেয়। পরে রাত সাড়ে আটটায় নিরাপদে গুলশানের বাসভবনে পৌঁছান তিনি। আক্রান্ত বাস দু’টি হলো- শান্ত ক্ল্যাসিক পরিবহন ও চৌদ্দগ্রাম ট্রান্সপোর্ট। 
 
চৌদ্দগ্রাম ট্রান্সপোর্টের চালক হারুনুর রশীদ জানান, স্থানীয় নাজির আহমেদ সিএনজি পাম্প থেকে গ্যাস নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল। এ সময় অজ্ঞাত ২০/২৫ জন দুর্বৃত্তরা গাড়ি লক্ষ করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে এবং গুলি ছোড়ে। পেট্রোল বোমা থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।তিনি বাসটির চালকের আসনে বসে ছিলেন। প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত তিনি বাস থেকে নেমে যান। এরপরই বাসটিতে আগুন ধরে যায়। 
 
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জিঞ্জাসাবাদের জন্য গাড়ি দু’টির চালক, হেলপারসহ ৪ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন- গাড়ি চালক আবদুল মালেক, হারুনুর রশিদ, পেয়ার আহাম্মদ ও মিলন। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 
 
ফেনীর পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত জব্দ করেছে ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জনকে আটক করেছে। তদন্ত শেষে ঘটনার মূল রহস্য উম্মেচিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, খালেদা জিয়ার গাড়ি ওই এলাকা অতিক্রমের সঙ্গে সঙ্গে পার্কি করা দু’টি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রল বোমা অথবা ককটেল নিক্ষেপ করে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনাটি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। ফেনী মডেল থানার ওসি রাশেদ খান জানান, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে বের করা হবে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।IMG0
 
এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা করেছে। যারা গত শনিবার ফেনীতে হামলা করেছিল তারাই এই হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান, বহরে থাকা তার গাড়ির কাছেই একটি বোমা পড়ে। 
 
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার গাড়ি শতাধীক গাড়ির বহরটি ৪টা ২০ মিনিটে ফেনী সীমান্তে এসে পৌঁছে। সেখানে ফেনীর দলীয় নেতাকর্মী মোটরসাইকেল বহর নিয়ে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানায়। খালেদা জিয়ার গাড়িটি বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশের মহিপাল ফিলিং স্টেশনের সামনে এলে সড়কের বিপরীত দিক মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত পর পর দুটি বোমা ছুড়ে মারে। গুলির আওয়াজও পাওয়া যায়। সড়কের উল্টোদিকে চট্টগ্রামমুখী পার্কিং করা দু’টি বাসে আগুন ধরে যায়। এসময় চারদিকে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। খালেদা জিয়ার গাড়িসহ বহরের ৩০-৩৫টি গাড়ি পেরিয়ে যাওয়ার পর ঘটে এই বিস্ফোরণ। মঙ্গলবার ফিরতি পথে খালেদা জিয়ার ফেনী সার্কিট হাউজে যাত্রাবিরতি করার কথা থাকলেও চট্রগ্রাম থেকে রওনা হতে দেরি হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাদ দেওয়া হয়। এর আগে গত শনিবার খালেদা জিয়া কক্সবাজারে যাওয়ার পথেও ফেনী জেলার সীমানার শুরুতে মোহাম্মদ আলী বাজারে তার বহরে হামলা হয়।
 
গত শনিবার রাত চট্টগ্রামে কাটিয়ে পরদিন কক্সবাজার পৌঁছান তিনি। সোমবার তিনি উখিয়া গিয়ে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিয়ে চট্টগ্রামে ফিরে আসেন। মঙ্গলবার রওনা হন ঢাকার পথে।
 
ইত্তেফাক/এমআই